Mokhles Chowdhury

title

 
Dhaka, Friday 12 March 2010 / 28 Falgun 1416 / 25 Rabiul Awal 1431
Iajuddin was forced to promulgate emergency: Mukhles

 

মাইনাস টু ফর্মুলা প্রণয়ন করেছিলেন জেনারেল মইন

   
নিউজ-ওয়ার্ল্ড, নিউইয়র্ক   
সোমবার, ১৫ জুন ২০০৯
 নিউজ-ওয়ার্ল্ডের কাছে ইয়াজউদ্দিনের উপদেষ্টা মোখলেস

সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদের সাবেক উপদেষ্টা এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, জাতিসংঘকে ব্ল্যাকমেইল করে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মইন উ আহমেদ বাংলাদেশকে চরম সংকটে নিপতিত করেছিলেন। তিনি বলেন, মইন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে বলেন, জাতিসংঘ বলেছে অবিলম্বে রাজপথের সহিংসতা বন্ধ করতে। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে তারা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা জারি না হলে শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে বাংলাদেশের সব সেনা ফেরত পাঠাবে। প্রেসিডেন্ট তার কথা শুনে কিছুটা বিস্মিত হন। প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘ কথাগুলো বলেছে দেখাতে পারবেন। তখন তিনি আমতা আমতা করেন।

সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর গ্রহণের পর জেনারেল মইন সম্পর্কে সংবাদ সংস্থা নিউজ ওয়ার্ল্ডকে টেলিফোনে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন লন্ডনে অবস্থানরত মোখলেস চৌধুরী। চট্টগ্রামে থাকাকালীন এক গণকের কাছে হাত দেখান জেনারেল মইন। সেখানে জানতে চেয়েছিলেন ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন কিনা।

তিনি বলেন, নিজে রাষ্ট্রপতি হওয়ার খায়েসে সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ হিসেবে মাইনাস টু’সহ বিভিন্ন ফর্মুলা প্রণয়ন করেছিলেন মইন। কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় চোখে শর্ষেফুল দেখে নির্বাচনের পক্ষে সরব হন। জাতির কাছে ধোয়া তুলসি পাতা হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল হিসেবে প্রেসিডেন্ট না হওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন। ২০০৬ সালে ইয়াজউদ্দিন আহমদ অসুস্থ হলে মইন সিএমএইচে গিয়ে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট থাকার প্রয়োজন কী? তিনি বলেন, মাইনাস টু’র নামে খালেদাকে দেশান্তর, হাসিনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, সংস্কারপন্থী তৈরিসহ এমন কোনো চক্রান্ত নেই যা তিনি করেননি। মইন সামরিক শাসন জারিরও পক্ষে ছিলেন।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তাকে সঙ্কেত দেয়া হয়েছিল, সেনাশাসন জারি করা হলে উন্নয়ন সহযোগী ও জাতিসংঘ অর্থনৈতিক অবরোধ সৃষ্টি করতে পারে। পরবর্তীকালে হাবিব ভিলাতে যুক্তরাষ্ট্রের দূত পেট্রিসিয়া বিউটেনিসের সঙ্গে একান্তে বেশ কয়েকবার বৈঠকে মইনের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান। বৈঠকে ডেপুটি চিফ অব মিশন গীতা পাসিসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের কথা যাতে রেকর্ড না হয় সেজন্য তিনি পেট্রিসিয়া বিউটেনিসের সঙ্গে এন্টি বাগিং ডিভাইস ফোনে কথা বলেন।

http://www.news-bangla.com/index.php?option=com_content&task=view&id=2352&Itemid=1 

 ওয়ান ইলিভেনের অজানা কথা

মোখলেসুর রহমান চৌধুরী

(বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপুর্ণ একটি অধ্যায় ওয়ান ইলেভেন। তার আগে ও পরে বাংলাদেশ অতিক্রম করে  করে  টালমাটাল এক ক্রান্তিকাল। সেই ক্রান্তিকালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি  এবং তত্থ্বাবধায়ক সরকারের  প্রধান উপদেষ্টা ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমদের  উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মোখলেসুর রহমান চৌধুরী। আর সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নিজেও জড়িয়ে পড়েন ইতিহাসের  ভিত নাড়ানো এক ঘটনার সঙ্গে। ওয়ান ইলিভেনের আগে ও পরের নানা ঘটনা এখনো জনমনে অপার  রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। মোখলেসুর রহমান চৌধুরী সেই সব ঘটনার স্বাক্ষী। ইতিহাসের সেই সব  না জানা ঘটনা নিয়েই মোখলেসুর রহমান চৌধুরীর ধারাবাহিক কলাম।  )

 

বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে আমাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ড. ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ। আইন অনুযায়ী নিয়োগকারী নিয়োগকৃতের নিয়োগের অবসান ঘটাতে পারেন। নিয়োগকৃতও পদত্যাগ করতে পারেন। প্রশ্ন হচ্ছে নিয়োগকারী ও নিয়োগকৃতের বাইরে অধস্তন কীভাবে উর্দ্ধতনকে রাষ্ট্রীয় পদ  থেকে অব্যাহতি প্রদান করে। সংবিধান রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিশেষ সহকারী নিয়োগের বেলায় যেভাবে রুলস অব বিজনেস সংশোধন করা হয় আমার জন্য কিন্তু তা করতে হয়নি। কেয়ারটেকার সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে ছাড়া কোনো বিধি, আইন ইত্যাদি সংশোধন করতে পারে না বলে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি গভীর রাতে এক সেন কর্মকর্তা আমাকে একটি চিরকুট দেন। অফিসে কাজে ব্যস্ত থাকায় এসির বাতাসে চিরকুটটি কোথায় যেন উড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে তিনি আবার আমার রুমে আসলে চিরকুটের বিষয় আলোচনায় আসে। কিন্তু আমরা দুজনেই চিরকুটটি খুঁজে পাইনি। সেনা কর্মকর্ত আবার একইভাবে লিখে আরেকটি চিরকুট দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যান। এর খানিক আগেই রেড ফোনে সেনাপ্রধানের সাথে আমার কথা হয়েছিল। মনে হচ্ছিল সব নরমাল। ১১ জানুয়ারির সাংবিধানিক বেশ কিছু ভুল সম্পর্কে আমি আলোকপাত করছিলাম।

পরদিন ১২ জানুয়ারি এক উর্দ্ধতন সিভিল কর্মকর্তা ফোনে জানান, স্যার আপনাকে  ওরা সরিয়ে দেবে। অন্য কয়েকজন জানান যে, ওইদিন আমি বঙ্গভবনে গেলে তারা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে। সিনক্রিয়েট করবে। সংবিধান অনুযায়ী এমনটি কল্পনা করা যায় না। একজন উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর সাথে কর্মকর্তা বা নিরাপত্তারক্ষীরা দুর্ব্যবহার করবে এটি কিভাবে সম্ভব- কেবল মনোলগ করলাম।  অবশ্য আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার খবর সর্বত্র আগেই গুজবাকারে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ১৫ দিন আগে এমনও বলা হয়েছিল যে, আমাকে আমার চেয়ারে বসা অবস্থায় গুলি করে মারা হবে। আমি সব সময় আল্লাহ তাওয়াককুল। ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে বেশ কিছু   ইয়াং অফিসারকে আমার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করে তোলা হয়েছিল। বঙ্গভবনে ডিউটি করার কারণে এবং বাইরে কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আগে থেকে আমাকে ভালোভাবে জানার কারণে আমার পক্ষ নিয়েছিলো বলে পরে জানতে পারি। একজন বুজুর্গ আমাকে পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃত করে মসজিদে বলেছিলেন, আল্লাহ ওয়ালিউল্লাজিনা আমানু ইয়ুখ রুজুহুম মিনাজ জুলমাতি ইলানুর। অর্থাৎ আল্লাহ সৎ লোকদের সেভাবে রক্ষা করেন যেভাবে দুধ থেকে মাছিকে তুলে নেয়া হয়। তিনি আমাকে বললেন যে, নো বডি উইল বি এবল টু টাচ ইউ, ইনশাল্লাহ।

১২ জানুয়ারি দুপুর পৌনে ১২টায় আমি পদত্যাগপত্র লিখি। মিন্টো রোডের বাসভবনে এই পদত্যাগপত্র লেখার আগে আম্মাকে সালাম করি এবং আম্মা ও স্ত্রীকে আগেই বলে নেই যাতে তারা আমাকে বাধা না দেন। মাশাল্লাহ, তারা সম্মত হন এবং যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার আমার কার্যক্রম ভূমিকা ও সততায় মুগ্ধ ছিলেন তাদের পাঠালে অফিসার এসে আমার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রটি নিয়ে যান। আমি যেখানে যেভাবেই হোক যেহেতু পদত্যাগ করেছি তখন সেটি গ্রহণ করে নিলেই সব ল্যাটা চুকে যেত। কিন্তু আমার পদত্যাগপত্র পেশ করার চতুর্থ দিনে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বিষয়টি জানা মাত্রই আমি যখন সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তুললাম তখন বলা হলো এগুলো বিয়ণ্ড আমাদের জুরিসডিকশন এণ্ড পাওয়ার, হচ্ছে। আমরা আপনার পদত্যাগপত্রটি রিপ্লেস করার চেষ্টা করছি। ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত অপর প্রস্তাবে ১৫ তারিখের প্রজ্ঞাপনটি একই তারিখ ও নম্বরের স্থলাভিষিক্ত করে পুনরায় জারি করা হয়। এখানেই ম্যালাফাইড ইনটেনশন সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমাকে অব্যাহতি দেয়া কিংবা আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ যেটিই হোক না কেন তাতে প্রেসিডেণ্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। আমার বস শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ সম্পর্কে বলছিলেন যে, সে তো নির্দোষ, নিরপরাধ। তাকে কেন পদত্যাগ করতে হবে? তাঁর কী দোষ?

 ১২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানে তিনি আমাকে খুঁজেছিলেন, সেখানে আমাকে যেতে দেয়া হয়নি। আর বলা হয়েছিল যে, আমি যাইনি। এখানে সমার্থক একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। আর তা হচ্ছে এক সম্পাদক জরুরি অবস্থা জারির পর রিপোর্ট প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি, বিশাল এক মন্তব্য কলাম লিখে বলেছিলেন একদিনের প্রেস সেন্সরশিপ নাকি আমি অরোপ করেছিলাম। ভাসুরের নাম নিতে তার লজ্জা করেছিল। তিনি ওয়ান ইলেভেনের পর এক উপদেষ্টাকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, তারাই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। তাদের জারি করা প্রেস সেন্সরশিপ আরোপের জন্য উল্টো আমাকে দায়ী করা যেন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোরই শামিল। তিনি মন্তব্য কলাম লেখার আগে আবার প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনে কথা বলে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এ বিষয়ে আমি জানি না।  প্রেসিডেণ্ট যথার্থই বলেছিলেন। তিনি যেভাবে আমাকে অব্যাহতি বা পদত্যাগের বিষয়ে জানেন না সে বিষয়েও একইভাবে তিনি জানেন না এবং একইভাবে এসব সিদ্ধান্ত দেয়ার বিষয় আমিও জানি না।

বিধি অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পরই সরকারি সুযোগ সুবিধা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা যায়। ভিআইপিদের বেলায় ভদ্রতা ও সভ্যতারওতো ব্যাপার ও মাত্রা আছে। আজ আমি যাকে স্যালুট দিচ্ছি স্যার স্যার করছি তার প্রতি কী কালই আমি চোখ উল্টে দিতে পারি স্রেফ ক্ষমতার জন্যে ও ক্ষমতার মদমত্ততায়। বলা হয়, ওয়ানস বস অব অলওয়েজ বস আমার পদত্যাগই যদি সত্যি হবে তাহলে আগে অব্যাহতির প্রজ্ঞাপন কেন জারি করা হলো; আর অব্যাহতি যদি অনুমোদিতই হয়ে থাকবে তাহলে আবার পরে পদত্যাগ রিপ্লেসড করতে হলো কেন? আমার পদত্যাগ যেখানে আমার বস অনুমোদন করতে চাচ্ছেন না সেখানে তার উপর সুপার বস কে? তার উপর তো বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে আর কেউ নেই। সংবিধান অনুযায়ী তিনি সর্বেসর্বা। তিনি তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেখানে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছেন না সেখানে সংবিধান কী পদদলিত হচ্ছে না? দুর্নীতির অপরাধের চেয়ে সংবিধান লংঘনের অপরাধ কত ভয়াভব তা কি সংশ্লিষ্টরা একবারও ভেবে দেখেছেন? বৈধ না অবৈধ সে প্রশ্নে না গিয়ে যদি ধরে নেয়া যায় ১৬ জানুয়ারি আমার পদত্যাগপত্র ১৫ তারিখের হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে তাহলে ১৩ তারিখ শনিবার ছুটির দিনে দুপুরেই পরই আমার অফিস ও সরকারি বাসভবনের টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো কেন? সেদিন অবৈধভাবে আমার রেড ও অন্য টেলিফোনের সংযোগ কেটে দেয়া হয়। অফিসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার হট লাইনও কেটে দেয়া হয়। সরকারি বাসভবন ছাড়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবের ওপর বেআইনিভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

মন্ত্রীর  বাসভবন ছাড়ার এ ধরনের নিয়ম নেই বলার পরও কিছু সাংবাদিককে এ কাজে ব্যবহার করা হয়। প্রথম আলোতে শুক্রবার ছুটির দিনে রিপোর্ট করা হয় এবং শনিবার ছুটির দিনে তা প্রকাশিত হয় যেখানে উল্লেখ করা হয় যে রোববার আমাকে বাসভবন ছাড়ার নোটিশ দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে  আমি জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, স্যার আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তারা জানলো কিভাবে? পত্রিকাটি চেক ও ভেরিফাই না করে কিভাবে এ ধরনের মনগড়া ও আজগুবি নিউজ ছাপলো? তাদের কী সাংবাদিকতার কোনো নীতিমালা মানতে হয় না। মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের এভাবে বাসভবন ছাড়ার নোটিশ দেয়ার নিয়ম নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ছেড়ে দিলে সেটি ভিন্ন কথা। আমি যাদের উপদেষ্টা বানিয়েছি তাদের কেউ কেউ এখনো সরকারি বাসভবনে আছেন। আমি যেখানে নিজেই দ্রুত বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলাম সেখানে উল্লিখিত মহলগুলো  কেন এধরণের আচরণ করলো তা বুঝে উঠতে  পারিনি। আমি যখন নিজেদের বাসায় ফিরে গেলাম তখন প্রথম আলো আমাদের বাসার মালিকানা নিয়ে তদন্ত করে বেশি হতাশ হলো। এপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যখন জানতে পারলো যে, এটি আমার  বিদেশ বসবাসরত ভাইয়ের অনেক কিস্তিতে অনেক আগে রাখা এবং আল্লাহর রহমতে আমাদের ঢাকা ও বাড়িতে পূর্বাপর অবস্থান  ও সম্পদের কথা।

কয়েকদিন পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেল কর্মকর্তা আমাকে বললেন, সেনাপ্রধান আপনার ওপর ক্ষ্যাপা। তিনি একমত হলেন যে, সেনাপ্রধানের সাথে আমার ব্যক্তিগত  কোনো সমস্যা নেই সত্য। কিন্তু এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমি কোথায় কাকে কি রিকমেণ্ডেশন বা সুপারিশ করেছি সেগুলো পর্যন্ত তদন্ত করা হয়। লাল কালিতে দাগ দিয়ে বিশেষভাবে এগুলো তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।  মন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের অনেক কিছুতেই যেভাবে রিকমেণ্ডেশন করতে হয় আমি সেভাবে করিনি। অগত্যা না পারলে অনুরোধে উপরোধে হাতে গোনা কয়েকটি  তাও ইনোসেন্ট দেখে করেছি। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও সেনাকর্মকর্তাদের দফায় দফায় আমার বাড়িতে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তদন্তে ও পুন:তদন্তে পাঠিয়েছেন সেনাপ্রধান- একথা আমাকে পরে তাদের কর্মকর্তাদের অনেকে জানিয়েছেন। আমি এসব ওয়েলকাম করেছি।  রাষ্ট্রীয়ভাবে আমি দায়িত্ব পেয়ে কোথাও একটি ইট পর্যন্ত লাগাইনি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর টাস্কফোর্সের মিটিংয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আফসোস করেছেন। বলেছেন এই জমানায় ১ জন সৎ লোকও আছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেয়ার আগে আল্লাহর রহমতে সকল ধরনের লোভ ত্যাগ করেছি এটা তারা মানুষের কাছ থেকে জেনেছেন। কিছু শত্রু ও হিংসুক যাদের কারো কারো বিরুদ্ধে অন্যায়ের কারণে সামাজিক ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল তারা অনেক ভূয়া দরখাস্ত করেছিল, যা তদন্তে ধরা পড়েছে। অন্যত্র হলে ভূয়া দরখাস্তকারীদের শাস্তি হতো।

সংবিধান  এ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয় স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে ও  কারো দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে।  অন্য কথায়, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে। ১১ জানুয়ারি এক সিনিয়র জেনারেল বঙ্গভবনে আমার রুমে বসে বললেন, আপনি ভ্যাটারান। আপনাকে দায়িত্ব পালনে কেউ বাধা দেবে না। অপর একজন গুরুত্বপূর্ণ সেনা কর্মকর্তাও ওই সময় আমাকে নির্দ্বিধায় দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেন। প্রেসিডেন্টের ভাষণে আপত্তিকর কিছু ব্ক্তব্য বাদ দেয়ার ঘটনা সেদিন ঘটেছিল। প্রেসিডেন্ট যাতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারেন সে জন্য সকল টেলিফোন হট লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। আমার পদত্যাগের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সাথে সাথে আমি আমার বাসভবনে উড্ডীন  জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেই এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হয়। পুলিশি প্রটেকশন এবং সিকিউরিটি ও গানম্যান মৌখিক নির্দেশে শুরুর দিকেই  সরিয়ে নেয়া হয়। অথচ পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুদিন পরে নেয়ার নজির সব সরকারের আমলেই রয়েছে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর ১৬ জানুয়ারি আমি বঙ্গভবনে যাই এবং বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের উর্ধ্বতন থেকে অধস্তন পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর কাছ থেকে বিদায় নেই। বেশিরভাগই তখন অশ্রুসজল। অনেকেরই উপকার করেছি শুনতে হচ্ছিল তাদের স্বাগত স্বীকারোক্তিতে। তখন সংশ্লিষ্ট এক সামরিক কর্মকর্তাকে আমার বঙ্গভবনের আইডি ফেরত দিই। (চলবে)

[বিশিষ্ট সাংবাদিক মোখ্লেসুর রহমান চৌধুরী ২০০৬-০৭ মেয়াদকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের উপদেষ্টা ছিলেনএর আগে তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেনইতোপূর্বে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক সাংবাদিক সংস্থা ওকাব-এর প্রেসিডেন্ট এবং কমনওলেথ জার্নালিস্টস্ এসোসিয়েনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন।]

 http://www.notundesh.com/motmotantor_news1.html

 

দুই নেত্রীকে চায়ের দাওয়াত আজ বঙ্গভবনে দ্বিতীয় দফা প্যাকেজ প্রস্তাব কেয়ারটেকার সরকারের

http://bdnews.wordpress.com/2006/12/02/দুই-নেত্রীকে-চায়ের-দাওয়া/

দাবির পর দাবি তুলে রাজপথে সহিংস আন্দোলনরত ১৪ দলকে নির্বাচনমুখী করার লক্ষ্যে প্রথম দফা প্যাকেজ প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর কেয়ারটেকার সরকার এবার দ্বিতীয় দফা প্যাকেজ প্রস্তাব নিয়ে এগুচ্ছে৷ এ উদ্যোগ ক’দিন আগেই শুরু হয় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার কাছে প্রেসিডেন্Uরে দূত পাঠাবার মধ্য দিয়ে৷ অ্যাডভাইজরদের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে৷ তার উদ্যোগে ৪ ও ১৪ দলের পক্ষে দুই শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা নিমরাজি হয়েছেন বলে সূত্র জানায়৷ এতে উত্সাহিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ও চিফ অ্যাডভাইজর প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বঙ্গভবনে দুই নেত্রীকেই চায়ের নিমন্ত্রণ করছেন৷ সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ ইতিমধ্যেই পৌছে দেয়া হয়েছে এবং আজই তারা আলাদা আলাদাভাবে বঙ্গভবনে চা খেতে আসতে পারেন৷
প্রসঙ্গত, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে কেয়ারটেকার সরকারের প্রথম দফা প্যাকেজ প্রস্তাব অনুযায়ী চিফ ইলেকশন কমিশনার (সিইসি) জাস্টিস আজিজ স্বেচ্ছায় তিন মাসের জন্য ছুটিতে গেছেন এবং দু’জন নতুন ইলেকশন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়েছে৷ কেয়ারটেকার সরকারের উপদেষ্টারা আশা করেছিলেন, এ প্যাকেজ পদক্ষেপের ফলে সঙ্কট দূর হয়ে যাবে এবং আন্দোলনরত ১৪ দল নির্বাচনমুখী হবে৷ সরকারের স্পোকসম্যান ও তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলো দেখতে পাচ্ছি৷ তার এ কথায় রাজনৈতিক মহলে আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা৷ সরকারের প্যাকেজ পদক্ষেপের পর ১৪ দল আন্দোলন থামায়নি৷ দাবির পর দাবি তুলে তারা আন্দোলন এখনো জিইয়ে রেখেছে এবং রাজপথে এক ধরনের লাগাতার অচলাবস্থা তৈরি করেছে৷ এ পরিস্থিততে কেয়ারটেকার সরকার আরো একটি প্যাকেজ প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলো রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সামনে৷
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, প্রেসিডেন্টের দূত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উন্নীত তার প্রেস অ্যাডভাইজর মোখলেসুর রহমান চৌধুরী প্রথমে শেখ হাসিনা ও পরে খালেদা জিয়ার মন বুঝতে তাদের সঙ্গে দেখা করতে যান৷ মোখলেসের সঙ্গে আলাপে শেখ হাসিনা শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনমুখী হতে মত দেন৷ খালেদা জিয়া জানান, সংবিধানের মধ্যে থেকে যে কোনো ফয়সালা বা প্রস্তাব মানতে কখনোই তাদের কোনো আপত্তি নেই৷ শেখ হাসিনার দেয়া আভাস অনুযায়ী অ্যাডভাইজরদের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ইলেকশন শেডিউলের নড়চড় করে এবং ইলেকশন কমিশনে শীর্ষ পর্যায়ে হাসিনার পছন্দসই কাউকে বসিয়ে সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন৷ সে অনুযায়ী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিইসি জাস্টিস মাহফুজুর রহমানের চেয়েও সিনিয়র কোনো বিচারপতির নাম আওয়ামী লীগের তরফ থেকে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে৷ আজ বঙ্গভবনে এসে শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব কবুল করলে সঙ্কট দূর হয়ে যাবে বলে কেয়ারটেকার সরকারের আশা৷
গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের এক অনির্ধারিত ডিনার মিটিংয়ে বিষয়গুলো স্থির করা হয়৷ সেখানে নির্বাচন কমিশনের অফিসাররাও ছিলেন৷ বৈঠকে নবম পার্লামেন্ট নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে ইতিপূর্বে ঘোষিত শেডিউল সংবিধানের আওতায় পুনর্বিন্যাস করার জন্যও অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানায়৷ গতকাল বিষয়গুলোকে ফর্মালাইজ করা হয় অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে৷
অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের এ বৈঠক শেষে সন্ধ্যার পর বঙ্গভবনের বাইরে এসে কেয়ারটেকার সরকারের স্পোকসম্যান ও তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের জানান, উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচনের শেডিউল সংবিধানের আওতায় পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনার জন্য৷ তবে শেডিউল পুনর্বিন্যাস করা হলেও নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে৷
তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিকদের আরো জানান, প্রেসিডেন্ট ও চিফ অ্যাডভাইজর প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পৃথকভাবে চায়ের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন৷ উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে দুই নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন৷ উপদেষ্টা মাহবুব বলেন, দুই শীর্ষ নেত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কথা বলা খুবই জরুরি৷ তবে দুই নেত্রীর কে কখন প্রেসিডেন্ট হাউসে চা খেতে যাচ্ছেন, গতকাল রাত পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷
বঙ্গভবনের বাইরে অপক্ষেমাণ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের শেডিউল পুনর্নির্ধারণ সম্পর্কিত অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যতো দ্রুত সম্ভব নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে৷ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বা নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি৷
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের চতুর্থ দফা অবরোধ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন এবং দেখুন; ভালো কিছুর আশা করুন৷ এখনো পূর্ণ একটি দিন রয়েছে৷
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে মাহবুবুল আলম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাস্টিস এম এ আজিজের ছুটিতে যাওয়াটা কেয়ারটেকার সরকারের একটি সাফল্য৷ তিনি বলেন, সিইসি ছুটিতে যাওয়ার পরও কেয়ারটেকার সরকার প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে৷ তবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি৷
এদিকে প্রাইভেট নিউজ এজেন্সি ইউনাইটেড নিউজ অফ বাংলাদেশ (ইউএনবি) গত রাতে জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাতেই প্রেসিডেন্Uরে চায়ের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন৷ আজ শনিবার তারা পৃথকভাবে বঙ্গভবনে যেতে পারেন৷ তবে ঠিক কোন সময়ে তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে ইউএনবি বা অন্য কোনো সূত্র সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেনি৷
বঙ্গভবনের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস) জানায়, প্রেসিডেন্টের প্রেস অ্যাডভাইজর মোখলেসুর রহমান চৌধুরীও গতকালের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=21597&issue=156&nav_id=1

 ===============================================================================

WEBINDIA123.com

Asia

International moves on to end Bangladesh political deadlock
Dhaka | November 30, 2006 2:20:59 PM IST
 

Alongside a number of local initiatives, international quarters have launched moves to forge a negotiation between the two major Bangladeshi political camps, sharply divided between Khaleda Zia's Bangladesh Nationalist Party and the Sheikh Hasina's Awami League, over the holding of the January general elections peacefully.

The deadlock, which was about to end with Chief Election Commissioner M A Aziz's decision to step aside last week in the face of a mass movement, intensified again on Monday when President Iajuddin Ahmed appointed two more controversial commissioners to the Election Commission, and the commission hastily announced the polls schedule with January 21 as the date for voting.

The Awami League-led political alliance has rejected the polls schedule and called upon the people to enforce another round of transport blockades across the country.

Concerned by the political turmoil, the United Nations sent an emissary to negotiate between the opposing parties, especially to pursue them for taking part in the general elections.

"I have come here to support free, fair and democratic elections as the people of this country want peaceful elections," the UN secretary general's special envoy, Craig Jenness who is now visiting Bangladesh, told reporters on Wednesday.

"All the major political parties should participate in the parliamentary polls and get equal scope for contest," Jenness, who met President Iajuddin Ahmed and AL chief Sheikh Hasina, said.

He underscored for holding dialogue to resolve issues, whatever they are.

The European Union, United States, United Kingdom, Canada, Australia and some Asian counties, including China and Japan, have also taken up simultaneous moves to bridge the division among the caretaker government, Election Commission and political camps to help to ensure credible elections.

The US Deputy Assistant Secretary for South and Central Asian Affairs, John Gastight Jr, is scheduled to arrive in Dhaka on December 3 on a two-day official visit to convey his government's stance for acceptable elections with the participation of all the major political parties in Bangladesh.

During his visit, he is expected to meet the chief adviser, advisers and top leaders of major political parties and civil society representatives.

The US Ambassador in Dhaka, Patricia A Butenis, on Wednesday night met with the immediate past prime minister, Khaleda Zia, to discuss Gastight's planned parley with Khaleda in the milieu of current political standoff.

It would be a 'follow-up' mission, within a month, in Bangladesh after the visit of the US assistant secretary of state, Richard Boucher, over the political developments in few months.

The British High Commissioner to Bangladesh, Anwar Choudhury, also held a meeting with Khaleda Zia, Tuesday evening presumably on issues concerning the parliamentary elections.

The Australian High Commissioner, Douglas Foskett, on Wednesday met President Iajuddin Ahmed at Bangabhaban, the presidential palace, where both of them observed that it is not important which party comes to power, rather the holding of fair elections was what mattered the most.

The UN resident coordinator, Renata Lok Dessalien, European Union ambassador Stefan Frowein, and envoys of the United States, United Kingdom, Canada, Australia and some Asian counties also held separate parleys with the chief adviser, advisers, Election Commission and the key political leaders apparently to help to resolve the current political impasse

Meanwhile, President Iajuddin Ahmed sent his adviser Mokhlesur Rahman Chowdhury to the Awami League president, Sheikh Hasina, and the BNP chairperson, Khaleda Zia, apparently to resolve the current political stalemate.Nobel Peace prize winner Muhammad Yunus has also urged the two major political camps to reach a 'peace accord' to avoid conflicts.

He suggested that even for forming a coalition government, political stability in Bangladesh was essential. (ANI)

http://news.webindia123.com/news/articles/asia/20061130/522746.html  

 ===============================================================================

Both agree to take tea at Bangabhaban


Sat, Dec 2nd, 2006 12:00 am BdST

Dhaka, Dec 1 (bdnews24.com) – Khaleda Zia and Sheikh Hasina have agreed to visit the Bangabhaban to take tea with President Iajuddin Ahmed, top aides to the rival political leaders said late Friday night.

But the initiative is not free from snags. The Awami League president wants her meeting to follow her counterpart's, a 14-party leader said.

According to one Bangabhaban source, the Hasina meeting has been scheduled for 4:00pm.

BNP sources said Khaleda, BNP chairperson, would wait for her secretary general Abdul Mannan Bhuiyan to return from his hometown of Narsingdi.

Iajuddin plans to offer "more concessions" to Hasina in his effort to woo her into withdrawing street protests, a source close to the chief adviser said.

The concessions will involve more changes to the Election Commission, the Bangabhaban source said.

Senior presidential aides phoned both leaders Friday night to formally invite them, the source said.

Mokhlesur Rahman Chowdhury, press adviser to the president, called Hasina, while the Khaleda invitation was extended by another senior official who the source refused to name.

Press adviser Chowdhury, asked by bdnews24.com, would not give details of the presidential diary but said Iajuddin had "engagements" in the morning.

"That means the tea meetings will have to take place in the late afternoon or early evening," Chowdhury said.

Abdul Jalil, the AL general secretary, told bdnews24.com Hasina was willing to go.

Rashed Khan Menon, chief of Workers Party, an ally of the AL-led 14-party alliance, confirmed her participation. "It has been decided that she will go. But her meeting will have to follow the BNP leader's," Menon said in response to bdnews24.com.

Earlier Friday evening, Adviser Mahbubul Alam emerged from a meeting of advisers to tell reporters the president would like to meet the two ladies over tea to try to end the political standoff.

Alam said they also discussed possibility of changing the polls schedule. "But the Election Commission will decide," he added.

Adviser Dhiraj Kumar Nath was not present at the meeting.

On demand for removal of election commissioners, he evaded a direct reply but said the three-month leave of Chief Election Commissioner MA Aziz was an "achievement".

The 14-party alliance has called for a transport shutdown as well as a halt to all traffic to the Bangabhaban unless demands such as Iajuddin's departure from the CA's office and removal of election commissioners.

bdnews24.com/sm/sum/ast/ad/tik/bd/0026hours

 ============================================================================

 

 
Committed to PEOPLE'S RIGHT TO KNOW
 
Vol. 5 Num 906 Thu. December 14, 2006  
   
Front Page


CA's resignation 'impractical'
Says US envoy


US Ambassador Patricia A Butenis yesterday said some political parties' demand for resignation of the president from the office of chief adviser (CA) is 'impractical'.

Adviser to the President Mokhlesur Rahman Chowhdury in a news conference disclosed Butenis' remark following a 30-minute meeting between the president and the US envoy in Bangabhaban yesterday where they discussed issues concerning the next election.

"The US ambassador told the president that the demand of some political parties for resignation of President Iajuddin Ahmed from the post of chief adviser is impractical," Mokhles told reporters.

"I have told them (the political parties) their demand is impractical," the president's adviser quoted the US envoy as telling the president.

Two issues featured prominently in the discussion -- the deployment of the armed forces in aid of the civil administration and resignations of the four advisers, Mokhles said.

Later talking to the reporters, the US ambassador said she told the president that the resignations of four advisers were 'unfortunate' as they are honourable personalities and patriots.

She said the president agreed with her but told her that the four new advisers are also firmly committed to working following the footsteps of their predecessors.

About reconstitution of the Election Commission (EC), the president told Butenis that if both the parties agree he would request Election Commissioners SM Zakaria and Modabbir Hossain Chowdhury to go on leave. The president believes the election commissioners would agree to go on leave if both the parties reach a consensus on the matter, Mokhles said.

Consulting with the two major political alliances, the council of advisers headed by Iajuddin in last week finalised a package of proposals including sending of Election Commissioners Zakaria and Modabbir on leaves of absence and appointing new election commissioners to reconstitute the EC. But the president in a sudden move appeared opposed to the idea of sending Zakaria on a leave of absence and unilaterally deployed the armed forces to maintain law and order, prompting resignations of four advisers.

Following non-implementation of the package proposal, Awami League (AL)-led 14-party coalition, Liberal Democratic Party-led National Unity Front, some small political parties and different organisations of professionals have bolstered their demands for resignation of Iajuddin from the office of CA and appointment of a 'neutral person' to the post.

The president's adviser in an unusual move yesterday invited journalists in his office in Bangabhaban and briefed them about the discussion between the president and the US envoy.

The US ambassador discussed issues concerning the next month's parliamentary election and reiterated the US position of preferring holding of a non-violent, free, fair and credible election.

The president informed Butenis that the caretaker government has taken all necessary steps to hold a free, fair and neutral election in a peaceful environment and the US ambassador expressed her satisfaction over the measures initiated by the government so far, Mokhles said.

"The United States will continue supporting the caretaker government in holding a free and fair election for continuity of the constitutional and democratic process," Butenis was quoted by Mokhles as saying.

The president's adviser said Iajuddin and the US envoy agreed that political parties have come very close to solving the crisis and to overcoming their disagreements on electoral issues, leaving only some trivial matters unsettled.

They hoped that the parties would come forward to resolve the trivial disagreements through their wisdom, intelligence, farsightedness and sense of patriotism.

Butenis also apprised the president of her meetings with four-party alliance leader Khaleda Zia and 14-party coalition leader Sheikh Hasina.

On the army deployment, Butenis observed that it is necessary to ensure that the army acts neutrally. They will monitor whether the forces deployed in aid of the civil administration are working neutrally, she added.

President and CA Iajuddin Ahmed assured the US envoy that all the forces will discharge their duties neutrally during the election just like they did in the past. "I have already directed the administration and all the forces to work neutrally," he was quoted by Mokhles as saying.

 

ISSN 1563-9304 | Falgun 12 1416 BS, Wednesday | February 24, 2010


President may initiate fresh dialogue

Thursday December 14 2006 09:30:36 AM BDT
President and Chief Adviser Prof Dr Iajuddin Ahmed yesterday dropped a broad hint that he would again initiate dialogue with political parties soon to resolve the remaining political problems.The President dropped the hint (New Nation)

during his discussion with US Ambassador Patricia A Butenis, who called on him yesterday afternoon.

Patricia A Butenis, during the 30-minute meeting, discussed with President Prof Dr Iajuddin Ahmed issues concerning next month's general election and reiterated the US position for non-violent, free, fair and credible polls.

During the meeting, both the President and Chief Adviser and the US Ambassador agreed that another round of talks between the major political parties would help resolve the political impasse, a Bangabhaban Spokesman said after the meeting.

The President and Chief Adviser assured the Ambassador that the Council of Advisers would take specific steps in this regard at its meeting yesterday evening.

Besides, he would request Commissioner Mudabbir Hossain Chowdhury to go on leave to remove the complicity centring the Election Commission, if necessary. The President expressed the hope that the other Commissioner (SM Zakaria) would go on leave if the two major political parties request him to do so. The President and Chief Adviser informed the Ambassador of the steps taken so far and were underway to hold free and fair elections in the country.

"With the steps already taken by the caretaker government a congenial election atmosphere has already been created in the country," President's Adviser M Mokhlesur Rahman Chowdhury quoted the President as telling Ambassador Butenis. Mokhles Chowdhury was briefing journalists after the envoy's meeting with the President at the Bangabhaban.

He quoted the US Ambassador as telling the President, "The United States would continue to support the caretaker government for holding a free and fair election for continuity of the constitutional and democratic process."

The President, he said, told the Ambassador that all the major demands of the parties in movement had already been fulfilled while a meeting of the Council of Advisers yesterday would take initiatives on the issue of rest of the demands.

He said during the meeting the US envoy, however, put stress on two issues -the deployment of Army troops and resignation of four advisers-saying, "we will monitor if the Armed Forces were discharging their responsibilities neutrally."

Later talking to newsmen at Bangabhaban gate, Ambassdor Patricia Butenis said, she had told the President that the resignation of the four advisers was "unfortunate, as they were honourable personalities and patriots".

She said the President agreed with her but said the four new advisers also were firmly committed to working 'following the footsteps' of their predecessors.

Mokhles Chowdhury said the President told the envoy that the Armed Forces were called out in aid of the civil administration to ensure a peaceful atmosphere during the polls as "it was done in the past" and "I have already ordered them to discharge their duties neutrally".

"The Armed Forces will discharge their duties neutrally as they did in the past," he quoted the President as telling the envoy.

According to the President's Adviser, the US Ambassador agreed with the President that the political parties have now come to a close proximity in resolving the crisis narrowing down their differences and on the election issue.

President Iajuddin and Butenis, he said, expected the political parties would resolve their disputes on the "remaining small issues" with their wisdom, farsightedness and patriotism.

She said she felt more assured after the meeting that the coming election would be staged in a free and fair manner.

Ambassador Butenis, Chowdhury said, told the President that the demands of some political parties for the resignation of President Iajuddin from the post of the Chief Adviser of the interim government was "impractical".

"I have told them (political parties) their demands are impractical," he quoted the US envoy as telling the President.

Patricia A Butenis, however, would not say anything on this issue while talking to the reporters.

 

New Nation