Mokhles Chowdhury

President Barack Hussain Obama

Mukhles --

I'm writing to you on a great day for America.

This morning, I gathered with members of Congress, my administration, and hardworking volunteers from every part of the country to sign comprehensive health care reform into law. Thanks to the immeasurable efforts of so many, the dream of reform is now a reality.

The bill I just signed puts Americans in charge of our own health care by enacting three key changes:

It establishes the toughest patient protections in history.

It guarantees all Americans affordable health insurance options, extending coverage to 32 million who are currently uninsured.

And it reduces the cost of care -- cutting over 1 trillion dollars from the federal deficit over the next two decades.

To ensure a successful, stable transition, many of these changes will phase into full effect over the next several years.

But for millions of Americans, many of the benefits of reform will begin this year -- some even taking effect this afternoon. Here are just a few examples:

Small businesses will receive significant tax cuts, this year, to help them afford health coverage for all their employees.

Seniors will receive a rebate to reduce drug costs not yet covered under Medicare.

Young people will be allowed coverage under their parents' plan until the age of 26.

Early retirees will receive help to reduce premium costs.

Children will be protected against discrimination on the basis of medical history.

Uninsured Americans with pre-existing conditions can join a special high-risk pool to get the coverage they need, starting in just 90 days.

Insured Americans will be protected from seeing their insurance revoked when they get sick, or facing restrictive annual limits on the care they receive.

All Americans will benefit from significant new investments to train primary care doctors, nurses, and public health professionals, and the creation of state-level consumer assistance programs to help all patients understand and defend our new rights.

As I've said many times, and as I know to be true, this astounding victory could not have been achieved without your tireless efforts.

So as we celebrate this great day, I want to invite you to add your name where it belongs: alongside mine as a co-signer of this historic legislation. Organizing for America will record the names of co-signers as a permanent commemoration of those who came together to make this moment possible -- all of you who refused to give up until the dream of many generations for affordable, quality care for all Americans was finally fulfilled.

So, if you haven't yet, please add your name as a proud health care reform co-signer today:

Please accept my thanks for your voice, for your courage, and for your indispensable partnership in the great work of creating change.

History, and I, are in your debt.
President Barack Obama



From: President Barack Obama
Date: Thu, Jan 28, 2010 at 4:54 AM
Subject: We don't quit
To: Mukhles Chowdhury <>

Mukhles --

I just finished delivering my first State of the Union, and I wanted to send you a quick note.

We face big and difficult challenges. Change on the scale we seek does not come easily. But I will never accept second place for the United States of America.

That is why I called for a robust jobs bill without delay. It's why I proposed a small businesses tax credit, new investments in infrastructure, and pushed for climate legislation to create a clean energy economy.

It's why we're taking on big banks, reforming Wall Street, revitalizing our education system, increasing transparency -- and finishing the job on health insurance reform.

It's why I need your help -- because I am determined to fight to defend the middle class, and special interest lobbyists will go all out to fight us.

Help me show that the American people are ready to join this fight for the middle class -- add your name to a letter to Congress today:

We have finished a difficult year. We have come through a difficult decade. But we don't quit. I don't quit.

Let's seize this moment -- to start anew, to carry the dream forward, and to strengthen our union once more.

President Barack Obama

Nawab Sir Salimullah Foundation Smritu Gold Medal

Letter from U.S. President Barack Obama

From: President Barack Obama

Date: Fri, Oct 9, 2009 at 10:02 PM

Subject: A call to action

To: Mukhles Chowdhury

Mukhles --

This morning, Michelle and I awoke to some surprising and humbling news. At 6 a.m., we received word that I'd been awarded the Nobel Peace Prize for 2009.

To be honest, I do not feel that I deserve to be in the company of so many of the transformative figures who've been honored by this prize -- men and women who've inspired me and inspired the entire world through their courageous pursuit of peace.

But I also know that throughout history the Nobel Peace Prize has not just been used to honor specific achievement; it's also been used as a means to give momentum to a set of causes.

That is why I've said that I will accept this award as a call to action, a call for all nations and all peoples to confront the common challenges of the 21st century. These challenges won't all be met during my presidency, or even my lifetime. But I know these challenges can be met so long as it's recognized that they will not be met by one person or one nation alone.

This award -- and the call to action that comes with it -- does not belong simply to me or my administration; it belongs to all people around the world who have fought for justice and for peace. And most of all, it belongs to you, the men and women of America, who have dared to hope and have worked so hard to make our world a little better.

So today we humbly recommit to the important work that we've begun together. I'm grateful that you've stood with me thus far, and I'm honored to continue our vital work in the years to come.

Thank you,

President Barack Obama




Dhaka, Nov 3  2006 (UNB) - US Ambassador Patricia Butenis tonight (Friday night) met the Press Secretary to the President at Bangabhaban and discussed US Assistant Secretary Richard Boucher's planned visit to Dhaka and security matters at the US Embassy.



Article: Secretary-Appointment. 

UNB - United News of BangladeshDecember 5, 2004 ; 131 words ... Dhaka, Dec 5 (UNB) - Journalist M Mokhlesur Rahman Chowdhury has been appointed Press Secretary to the President. A press release today said Chowdhury, President of the Overseas Correspondents Association Bangladesh (OCAB), obtained his masters in Mass Communication and Journalism from Dhaka University. He was working for the Daily Dinkal as special correspondent and diplomatic reporter before before his appointment as the President's Press Secretary. Mokhles attended over 30 training courses on journalism.



অসময়ে উপাত্ত উন্মোচনের উৎকট প্রতিক্রিয়া

সাদেক খান

পয়লা ফেব্রুয়ারি ছিল রাজধানী ঢাকার অদূরে তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমায় সমবেত ১০৪ দেশ থেকে আসা ১০ হাজার ৫০০ বিদেশী মুসল্লিসহ এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ লোকের আখেরি মুনাজাত। ওই দিনই ঢাকা মহানগরীর আরেক দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন।
ওই বইমেলার বাণিজ্য-সুযোগ ব্যবহারের লক্ষ্যে পুস্তক প্রকাশক ইসমাইল হোসেন বকুল ২৯ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের আত্মজীবনীমূলক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বাংলাদেশকে দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্নীতিবাজ আখ্যাদানকারী বৈদেশিক এনজিও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ঢাকার প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ ‘শান্তির স্বপ্নেঃ সময়ের স্মৃতিচারণ’ নামের এ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। তিনি এবং আরো দু’জন আলোচক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও ঔপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলন ওই অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের শান্তির স্বপ্নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা সমস্বরে সার্টিফিকেট দিয়েছেনঃ ‘৩৮ বছরের বাংলাদেশে যে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, যে অর্জন পাওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পাইনি; এই বইয়ের মাধ্যমে সে স্বপ্ন আমরা দেখছি।’ জেনারেল মইন ইউ আহমেদ গ্রন্থকার হিসেবে তার উপস্থাপনায় বলেছেন, ‘আজ স্বপ্ন দেখলে ভবিষ্যতে অবশ্যই শান্তি আসবে।... দেশের এবং সেনাবাহিনীর স্বার্থে কোনো কাজ করতে (আমার) আর ভয় নেই।’

কিন্তু ওই অনুষ্ঠান এবং সেনাপ্রধান লিখিত ওই কেতাব থেকে উদ্ধৃত নানা কথা বিভিন্ন মহলে তৎক্ষণিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানের পরপরই একটা ঘরোয়া আলোচনায় একজন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব প্রশ্ন তোলেন, এ রকম রচনা প্রকাশের আগে ক্ষমতাসীন সরকারের তরফে রচনাটির পরীক্ষিত ও লিখিত অনুমোদন সেনাপ্রধান চেয়েছেন এবং পেয়েছেন কিনা। সন্দেহ প্রকাশ করেছেনঃ জেনারেল মইন হয়তো ভুলে গেছেন যে তিনি আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আওতায় সরাসরি রাষ্ট্রপতির মৌখিক অনুমতিনির্ভর, সেনাছাউনির সুমতি চালিত পদকর্তা নন; ৬ জানুয়ারি থেকে তিনি জনপ্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দায়বদ্ধ। যথারীতি পূর্বপরীক্ষিত ও অনুমোদিত না হয়ে থাকলে ওই কেতাব বাজারে ছাড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সেনাপ্রধানের জবাবদিহি তলব করবেন, কারণ স্পর্শকাতর যেকোনো রাষ্ট্রীয় কার্যবিবরণীর গোপনীয়তা রক্ষার শপথে তিনি আবদ্ধ; অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীও সার্বভৌম জাতীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ রাষ্ট্রীয় পদকর্তাদের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে তার সতর্কতা ও তদারকির জবাবদিহির জন্য।
পরদিন গণমাধ্যমে ওই কেতাব ছাপানোর আগে সেনাপ্রধানের তরফে সরকারিভাবে সেটার যাচাই আর অনুমোদন পাওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা প্রকাশ্যভাবেই উল্লেখ করেছেন আরেক সাবেক সচিব। তা ছাড়া কেতাবে বর্ণিত কিছু কিছু ঘটনার সত্যাসত্য নিয়েও সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয়েছে। কেতাব জাহির পর্বের প্রধান অতিথি অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ মোড়ক উন্মোচন করতে গিয়ে নিজেও বলেছেন, সেনাবাহিনীর অনেক কাজে স্বচ্ছতা নেই, অনেক ঘটনা অস্পষ্ট; সমুদয় ঘটনা প্রকাশ না করলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ইঙ্গিত করেছেন, সেনাপ্রধানপ্রদত্ত কোনো কোনো বিবরণ অসম্পূর্ণ। জরুরি অবস্থা জারি সংক্রান্ত ১১ জানুয়ারি, ২০০৭-এর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ওই কেতাবের পরবর্তী সংস্করণে ‘বিস্তারিত উল্লেখ’ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বঙ্গভবনে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত মোখলেসুর রহমান চৌধুরী সেনাপ্রধানপ্রদত্ত ঘটনা বিবরণীর প্রতিবাদ করে লিখেছেনঃ “সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ তার আত্মজীবনীমূলক ‘শান্তির স্বপ্নে সময়ের স্মৃতিচারণ’ বইয়ে ‘ওয়ান-ইলেভেন’ নামে অধ্যায়ে সেদিনের ঘটনা তার মতো করে বর্ণনা করেছেন। যেখানে অসত্য, অসম্পূর্ণ অনেক তথ্য স্থান পেয়েছে। তার ওই লেখায় আমাকে জড়িয়েও কিছু অসত্য ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।... আমেরিকায় সংঘটিত ৯/১১ আদলে বাংলাদেশে ১১ জানুয়ারিকে তিনি ওয়ান-ইলেভেন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিশেষত্ব প্রকাশ করতে চেয়েছেন। সেই তারিখে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সেনাপ্রধানকে বঙ্গভবনে তলব করেননি। বঙ্গভবনে তাদের প্রবেশ ছিল ‘আন কল্ড ফর’। তাকে বঙ্গভবনের গেটে আটকে দেয়া হয়েছিল। সেই কারণে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুহাম্মদ সোহাইলকে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়াই তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাকে সমর্থন না করায় রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়াই এনএসআই’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। মেজর জেনারেল আখতার ও মেজর জেনারেল শরীফ উদ্দিন আহমদকে একইভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।...রাষ্ট্রপতির ভাষণ, জরুরি অবস্থা জারির কাগজপত্র এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র ইত্যাদি কাগজপত্র সেনাপ্রধান আগেই তৈরি করে সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। রাষ্ট্রপতিকে জোর করে এসব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল।”
সেনাপ্রধান প্রদত্ত যে বিবরণীকে অসত্য বলে মোখলেসুর রহমান চৌধুরী প্রতিবাদ করেছেন, সংক্ষেপে সেটা এরকমঃ “(১০ জানুয়ারি, ২০০৭) বিকেলে আমার টেলিফোন অপারেটর আমাকে জানাল, জাতিসঙ্ঘ থেকে শান্তি মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মি. জন মেরি গুইহিনো আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন। আমি বুঝলাম, আমাদের শান্তিরক্ষা মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেয়া হুমকি শুধু হুমকিই ছিল না তা বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে। ১১ জানুয়ারি ভোরে প্রথমে খবর ও পরে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতর থেকে টেলিফোন পেলাম। আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মি. হুইহিনো কোনো রকম ভণিতা না করেই জানালেন, সব দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত নির্বাচন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ রকম একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি ভূমিকা রাখে, তাহলে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।...

সেনাবাহিনীর সীমিত আয়ের চাকরিতে সৈনিকদের একমাত্র অবলম্বন জাতিসঙ্ঘ মিশন। তাদের সামনে থেকে যদি সেই সুযোগ কেড়ে নেয়া হলো, তাহলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। সেই সাথে শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের এত দিনের সুনামও ভূলুণ্ঠিত হবে।...
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতিসঙ্ঘের মনোভাব নিয়ে আমি নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানের সাথেও কথা বললাম। তারাও সবাই একমত হলো। রাষ্ট্রের এ পরিস্থিতি মহামান্য প্রেসিডেন্টকে অবগত করে তার দিকনির্দেশনা চাওয়া প্রয়োজন। আমরা প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার জন্য সময় চাইলাম। প্রেসিডেন্টের এমএসপি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আমিনুল করিম জানাল, প্রেসিডেন্ট ১৪.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের সাথে একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ১৫.৩০ ঘটিকায় দেখা করার জন্য আমাদের সময় দেয়া হলো। ঠিক হলো আমরা তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও এবং ডিজিএফআই’র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী (ডিজি, ডিজিএফআই তখন একটি সরকারি সফরে বিদেশে অবস্থান করছিল) একসাথে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলব। আমি ভাবতে চেষ্টা করলাম, অযাচিত এই অনুরোধ করার পর রাষ্ট্রপতি কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? আমাদের অনুরোধকে বিদ্রোহ ভেবে বা রাষ্ট্র পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করছি বিবেচনা করে ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের দিয়ে আমাদের গ্রেফতার করতে পারেন, এমনকি তার জীবনের প্রতি হুমকি বিবেচনায় হত্যার নির্দেশও দিতে পারেন, সেনাপ্রধানের পদ থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে পারেন।...
আমি আশান্বিত হলাম এই ভেবে যে, রাষ্ট্রপতি একজন প্রথিতযশা শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে তিনি অজস্র গুণী মানুষ তৈরি করেছেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশ বাঁচাতে নিশ্চয়ই তিনি ঠিক সিদ্ধান্তটিই নেবেন।... বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্ভেদ্য। পিজিআর কিংবা এসএসএফ, সেনাবাহিনী কিংবা অন্য কোনো বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের আওতাধীন নয়। এমন নিরাপত্তা বলয়ে আমরা কয়েকজন যাচ্ছি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র অবস্থায়।...
আমি প্রেসিডেন্টকে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিরোধী রাজনৈতিক দলের আলটিমেটাম, বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান, বিশেষ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জাতিসঙ্ঘের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালাম। জাতিসঙ্ঘ মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হলে যে বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা সবিস্তারে বর্ণনা করলাম। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানও নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সচেষ্ট হলো। ডিজিএফআই’র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী গোয়েন্দা দৃষ্টিকোণ থেকে ২২ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অগ্রসর হলে দেশ যে ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হতে পারে, তার বর্ণনা দিল।...

আলোচনার মাধ্যমেই বের হয়ে এল সঙ্কট হতে উত্তরণের জন্য আমাদের সম্মুখে তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, বর্তমান পরিস্থিতির ভেতরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করা; যদিও সব দল অংশগ্রহণ না করায় এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সে ক্ষেত্রে দেশকে অচিন্তনীয় এক সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের নির্দেশ পালন করতে হলে সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। সর্বোপরি অগ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার জন্য জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের ঝুঁকি এবং এর ফলে সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কাও থেকে যাবে। দ্বিতীয়ত, দেশে সামরিক আইন জারি করে সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেনাবাহিনীও সামরিক আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে এবং বর্তমান বিশ্বে সামরিক আইনের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে। তা ছাড়া সামরিক আইনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে দেশ সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে পড়বে। তৃতীয় এবং শেষ উপায় ছিল, দেশে সংবিধান সমুন্নত রেখে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা।... মহামান্য প্রেসিডেন্ট আরো কিছুটা সময় চাইলেন। আমি স্পষ্ট অনুভব করছিলাম, রাষ্ট্রপতি পরিস্থিতির গুরুত্ব ঠিকই অনুধাবন করতে পারছেন; তবে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত।...

দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে প্রেসিডেন্ট একসময় সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে মত দিলেন। সিদ্ধান্ত হলো, বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ তিনি ভেঙে দেবেন এবং প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় রাত ১১টা থেকে সান্ধ্য আইন জারি করা হবে।”
মোখলেসুর রহমান বিপরীতে লিখেছেন, “রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে সেনাপ্রধানের অবস্থান আমার অনেক পরে হওয়া সত্ত্বেও (সেনাপ্রধান) তার বইয়ে আমাকে শুধু প্রেস সচিব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের সেনা সদরের তৈরি করা জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত ভাষণের আপত্তিকর অংশ আমি রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনা করেই দেখে ঠিক করেছিলাম।... আমি ভাষণের আপত্তিকর কিছু অংশ সংশোধন করার পরও প্রচারিত ভাষণে সেগুলো আবার স্থান পায়। ভাষণে সাংবিধানিক ভুল তথ্য লক্ষ করতে পেরে... (সেনাপ্রধানকে) বললাম, আপনাদের লেখা এ ভাষণে নয়জন উপদেষ্টার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং অপর উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব প্রদানের যে কথা বলা হয়েছে তা মারাত্মক ভুল ও সংবিধান পরিপন্থী। তখন সেনাপ্রধান আমাকে বলেন, ‘ভাষণসহ অনেক ক্ষেত্রেই অনেক ভুল হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে এখন কথা না বলাই ভালো।’
আমার চরিত্র বদলের চেষ্টার কথা বলে তিনি আমাকে কটাক্ষ করেছেন। অথচ বাস্তবতা হলো, যতক্ষণ আমি বঙ্গভবনে দায়িত্বে ছিলাম ততক্ষণ আমার সহযোগিতা পাওয়ার জন্য তার চেষ্টা ছিল প্রাণান্তকর। চরিত্র বদলে তার অবস্থান জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।...
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি আসলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি নয়, বরং মার্শাল ল’ জারির চেষ্টা হয়েছিল। সেনাপ্রধান জাতিসঙ্ঘের যে কর্মকর্তার উদ্ধৃতি করেছেন, তা সত্যের অপলাপ মাত্র... আমাদের সাথে জাতিসঙ্ঘের তৎকালীন মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল নিকোলাস বার্নস, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইস ও রিচার্ড বাউচারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ছিল। ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস এ ব্যাপারে আমার সাথে অনেক বৈঠক করেছেন। এসব কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতিসঙ্ঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সে দিন মার্শাল ল’ বিরোধী ভূমিকা নিলে এবং আমার জানামতে সেনাবাহিনীতে অনেক জেনারেল এতে রাজি না হওয়ায় তার মার্শাল ল’ জারির চেষ্টা সফল হয়নি। জেনারেল মইন পরবর্তী জরুরি অবস্থা জারির অপশনে যেতে বাধ্য হন।”
অষ্টম জাতীয় সংসদকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান লিখেছেনঃ “জেনারেল মইন ইউ আহমেদের নিজের স্বীকৃতি অনুযায়ী তিনি এক-এগারতে একবার শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তার সদ্যপ্রকাশিত গ্রন্থে রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে গোপন আলোচনা প্রকাশ করে কর্মরত সেনাপ্রধান অবশ্যই দ্বিতীয়বার শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হলেন। বিদেশী শক্তির নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত করে এবং পরবর্তীতে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে সুশীল (?) হওয়ার পথে জেনারেল মইনের ইতোমধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। দু-দু’টি বই প্রকাশ তার সুশীলত্বের দাবিটিকে নিঃসন্দেহে আরো জোরদার করবে; কিন্তু শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থেকে জেনারেল মইন কেমন করে মুক্ত হবেন, সেটিই এখন দেশবাসীর দেখার বিষয়। ২০০৮ সালে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ যখন মহাশক্তিধর সেনাপ্রধানের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছিলেন, সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছিলেন, ‘মেয়াদ আর কত বাড়বে? সব কিছুর একটা শেষ আছে।’ আশা করি, পুনঃ পুনঃ শৃঙ্খলাভঙ্গেরও যে একটা সীমা আছে, সে বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর সাথে একমত পোষণ করবেন।”

বিবিসি খ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক আতাউস সামাদ লিখেছেনঃ “জেনারেল মইন একটা নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তিনি চাকরিরত অবস্থায় একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। বইটির শিরোনাম ‘শান্তির স্বপ্নে সময়ের স্মৃতিচারণ’।... এতে গত ১১ জানুয়ারি, ২০০৭ তারিখে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ হঠাৎ করে যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন, তা কেন করলেন, কীভাবে করলেন, কাদের পরামর্শে করলেন, তার বর্ণনা রয়েছে। ওই জরুরি আইনের শাসনে দেশ জর্জরিত হয়েছে প্রায় দুই বছর। কাজেই পাঠকরা যে জেনারেল মইনের বইটি পড়তে উন্মুখ হবেন তা প্রায় নিশ্চিত। তবে যারা জরুরি অবস্থা জারি করা সম্পর্কে জেনারেল মইন ইউ আহমেদের বিবরণটি পড়বেন তাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তার বর্ণনাই ঘটনার একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিবরণ বলে বিবেচিত হতে পারে না। কারণ, ১-১১’র নাটকে আরো চরিত্র আছে। আর আছে এ নাটকের ওই অঙ্কের আগে ও পরে আরো বহু জানা-অজানা ঘটনা।”
প্রশ্ন তুলেছেনঃ “জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী ১-১১’র আগে থাকতেই কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি তাকে যোগাযোগ করে ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে’ সেনাবাহিনী দেশের দায়িত্ব নেবে কি না জানতে চেয়েছিলেন। এর একটি অর্থ কি এমন হতে পারে যে, ওই বিদেশীরাই চেয়েছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক গোলযোগকে উছিলা করে দেশের সেনাবাহিনী অথবা তাদের ক্রীড়নকরা ক্ষমতায় বসুক?...
সেনাপ্রধান নিজেই বলছেন, ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকরা তাকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছিল যে, ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে সব দল অংশ না নিলে সেনাবাহিনী যেন সেই ভোট অনুষ্ঠানে কোনো দায়িত্ব পালন না করে। তা করলে বাংলাদেশী সৈন্যদের বাড়তি আয়-রোজগার করার জন্য আর বিদেশে শান্তি মিশনে যেতে হবে না। সেনাপ্রধান কি ওই কূটনীতিকদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারা বা তাদের নিজ নিজ দেশের সরকার কি বাংলাদেশ সরকারকে ওই কথিত বিপদের কথা জানিয়েছে?”
আরো প্রশ্ন তুলেছেনঃ “সেনাপ্রধান ১-১১’র সময়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে লিখেছেন, তিনি ভাবতেন ‘এ সমস্যা রাজনীতিবিদদের তৈরি, রাজনীতিবিদদেরই এগিয়ে এসে এর সমাধান খুঁজতে হবে।’ জেনারেল মইনের এই লেখায় বিষয়টির উল্লেখ নেই বলে আমরাই এখানে স্মরণ করি যে, ১৯৯০ এবং ১৯৯৬ সালে রাজনীতিবিদরা আসলেই কোনো গৃহযুদ্ধ ছাড়া ‘সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি’ থেকে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান করেছেন। তখন কোনো মার্শাল ল’ বা বিদেশীদের নির্দেশে সেনাপতিদেরকে ‘জরুরি অবস্থা’ আমদানি করতে হয়নি। এবার সেভাবে সমাধান করার শেষ সুযোগ পাওয়া গেল না কেন?”
আতাউস সামাদ অবধারিতভাবে আর যে প্রশ্নগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন তার মূল কথাঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আদৌ রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়কের নির্দেশে চলে, নাকি জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?

সাবেক সেনা কর্মকর্তারা জেনারেল মইনের অধিনায়কত্বে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব বিপন্ন বলে উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘায়িত জরুরি অবস্থা যখন নড়বড়ে হয়ে উঠেছিল তখন একটি ইংরেজি দৈনিকে কেন সেনাপ্রধান হিসেবে পেশাদারি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য জেনারেল মইনের পদত্যাগ করা উচিত তার কয়েক দফা কারণ বর্ণনা করে প্রথম পাতায় একটা মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। এখন সেসব কারণের সাথে বিভিন্ন মহলে বৈঠকি আলোচনায় যুক্ত হয়েছে তার দেশাত্মবোধ নিয়ে সংশয়। স্বাজাত্যাভিমানের যে মর্যাদাবোধ থেকে নিরস্ত্র দরিদ্র কৃষক মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছিল, সংগৃহীত সামান্য অস্ত্রবল নিয়েই মরণপণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সেটুকু আত্মমর্যাদাবোধও কি জেনারেল মইনের নেই? জাতিসঙ্ঘের ভাড়া খাটাই ‘সেনাবাহিনীর সীমিত আয়ের চাকরিতে সৈনিকদের একমাত্র অবলম্বন’ এ কথা তিনি কী করে লিখলেন? রাষ্ট্র কি তাদের শিক্ষাদান করেনি, নিয়মিত বেতন দেয়নি? মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের সিপাইরা যে ইমানের পরীক্ষা দিয়েছে, সেটা কি এখন তারা ভুলে বসে আছে? তাদের মৌলিক আনুগত্য রাষ্ট্রের প্রতি না জাতিসঙ্ঘের প্রতি?

ওয়াকেবহাল মহল আরো বলছে, বিশ্বশান্তি রক্ষার কাজে বাংলাদেশের স্বল্প বেতনের সুশিক্ষিত সৈনিকদের প্রয়োজন জাতিসঙ্ঘেরই বেশি। শান্তিরক্ষার কাজে যথেষ্ট সংখ্যক দক্ষ সৈন্য সংগ্রহে জাতিসঙ্ঘকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। হঠাৎ করে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি একেবারেই অসার। তা ছাড়া জাতিসঙ্ঘের সনদেও কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের কারণে শান্তিরক্ষীবাহিনী থেকে ওই দেশের সৈন্য বহিষ্কারের কোন বিধান নেই। বাংলাদেশ বিদ্বেষী বৈদেশিক সংবাদমাধ্যমে এ রকম চাপ সৃষ্টির কথা তোলা হয়েছে। সেটা ছিল বৈরী মনস্তাত্ত্বিক প্রচারযুদ্ধের চাপ। সেই চাপের কাছে নতিস্বীকারের হীনম্মন্যতা এবং সেই অছিলাকেই ব্যবহার করে সেনাপ্রধানের জরুরি অবস্থা জারির দায়স্বীকার ও ‘আত্মপক্ষা সমর্থন’ দেশদরদি মহলে দারুণ ধিক্কার ধ্বনি তুলেছে। আরো প্রশ্ন উঠেছে, সামরিক বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের সেনাপ্রধান তার সাথে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন কেন? তিনি লিখেছেনঃ “ক্ষমতাধর কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি আমার সাথে দেখা করে জানাল, সব দলের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী সহায়তা করলে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য তারা জাতিসঙ্ঘকে অনুরোধ করবে। প্রচ্ছন্ন এ হুমকির অবশ্যম্ভাবী পরিণতি অনুধাবন করতে আমার অসুবিধা হলো না। জাতিসঙ্ঘের কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক এসব দেশের অনুরোধ ও মতামত যে জাতিসঙ্ঘ অগ্রাহ্য করতে পারবে না, তা বলাই বাহুল্য। আমি এর পরিণাম চিন্তা করে শিউরে উঠলাম। আমার ১৯৭৫-এর ৬ ও ৭ নভেম্বরের কথা মনে পড়ল, যখন সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ভেঙে সিপাহিরা অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সেদিন কোনো চেইন অব কমান্ড কাজ করেনি।”
সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, জেনারেল মইন ভুলে গেলেও দেশবাসী মনে রেখেছে, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ৬ ও ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতা বিপ্লবের আগেই ভঙ্গ করেছিল ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও তার অনুসারীরা। ২ ও ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে তারা তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী করে তারা বঙ্গভবন দখল করেছিল। জেনারেল মইন তার আত্মজীবনীমূলক কেতাবের অসময়োচিত ও অসঙ্গত প্রকাশোৎসবের মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে জানিয়ে দিলেন, ’৭৫ সালে তিনি নিজেও ছিলেন সেনা শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও গণরোষে পরাস্ত ওই সেনাচক্রের কর্মকর্তাদের অনুগত।
সাবেক সেনা কর্মকর্তারা আরো বলছেন, সেনাপ্রধান পদে জেনারেল মইনের নিয়োগের মেয়াদ আগামী জুন মাস পর্যন্ত। ‘দেশের ও সেনাবাহিনীর স্বার্থে কোনো কাজ করতে আর ভয় নেই’ এ কথা বলে যদি তিনি স্বপ্ন দেখে থাকেন, আরো কাজ করার জন্য তার নিয়োগকাল বর্ধিত হবে বা উচ্চতর দায়িত্বে তিনি অধিষ্ঠিত হবেন, তা হলে অসময়ে ওই ‘আত্মজীবনী’ প্রকাশ করে তিনি রাষ্ট্রস্বার্থ রক্ষায় তার অযোগ্যতাই জাহির করেছেন। সরকারি মহলে এ কথা জোরেশোরেই উঠেছে। সেটা ধামাচাপা দেয়া সহজ হবে না।
লেখকঃ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট (সূত্র,নয়া দিগন্ত,০৬/০২/২০০৯)