Mokhles Chowdhury

Interview with Probashi Barta

probashibarta.com
সাক্ষাতকারটির অডিও শুনতে ওপরের লিংকে ক্লিক করুন 

জেনারেল মঈন উ আহমেদ একজন জাতীয় বেঈমানঃ

২৬ শে ফেব্রুয়ারী ২০০৭ তিনি আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন

-রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী




 

পিবিসি নিউজ, নিউইয়র্ক: আজ ২১ শে অক্টোবর প্রবাসীবার্তা ডট কমের সাথে দেয়া এক সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান

চৌধুরী জেনারেল মঈন উ আহমেদকে জাতীয় বেঈমান আখ্যায়ীত করেন এবং ২৬ শে ফেব্রুয়ারী ২০০৭ মূখোশধারী লোক পাঠিয়ে জেনারেল মঈন তাকে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। 

সাক্ষাৎকারটি সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমে গ্রহন করেছেন প্রবাসীবার্তার সম্পাদক মন্ডলির সভাপতি ও প্রকাশক মতিউর রহমান লিটু। 

 

লন্ডনে অবস্থানকারী সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মদের উপদেষ্টা মোখলেস চৌধুরী ২৬ মিনিটের এ সাক্ষাতকারে বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য মঈন আপ্রাণ চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রপতি হতে না পেরে জরুরী আইন জারি করেন এখন মিডিয়ার সাক্ষাতকারে বলছেন, রাষ্ট্রপতি হতে চাইলে কেউ তাকে থামাতে পারতো না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সাবেক এ সেনা প্রধান একজন ভন্ড, প্রতারক, সংবিধান ও গণতন্ত্র বিরোধী, রাষ্ট্রদ্রোহী ও মিথ্যাবাদী।

তিনি ২০০৬ সালে ২৯ অক্টোবর বিএনপি সরকারের বিদায়ের আগে জেনারেল মঈন ১ ঘন্টার নোটিশে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে রেডি করে রেখেছিলেন। ২০০৬ সালে কেয়ারটেকার সরকার সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই জেনারেল মঈন রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য মার্শাল ল দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘকে ইনভল্ব করে আমরা সেদিন তার মার্শাল ল দেয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ করে দিয়েছিলাম। বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পেট্রিসিয়া বিউটেনেস এর সঙ্গে বঙ্গভবন ও তার বাসভবন হাবিব ভিলায় আমার একাধিক বৈঠক হয়েছিলো জেনারেল মঈনের মার্শাল ল কে ব্যর্থ করার জন্যই। জেনারেল মঈন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার জন্য তিন বাহিনী প্রধান, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনা বাহিনীর যেসব সিনিয়র অফিসারকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন তারাই তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সাধ সম্পর্কে অবহিত আছেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য জেনারেল মঈন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগসহ অনেক কৌশল অবলম্বন করে ব্যর্থ হয়ে বন্দুকের জোরে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে পুতুলে মত ব্যবহার করেছেন। জরুরী অবস্থার মোড়কে ক্ষমতা দখল করে দুটি বছর মাইনাস থিউরি, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে ডিজিএফআইকে দিয়ে রাজনৈতিক দল গড়া ও ভাঙ্গা, তার বিপক্ষের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে দুর্নীতির তালিকাভুক্ত করে নির্যাতন-নিপিড়ণ করাই ছিল তার প্রধান কাজ। লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফয়জুল বারীসহ অনেকেই জেনারেল মঈনে রাষ্ট্রপতি হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের চেষ্টার সকল তথ্য জানেন। 

জেনারেল মঈ এখন যতই ধোয়া তুলসি পাতা সাজতে যাক না কে ১/১১ এর পর বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ ত্যাগ না করা, শেখ হাসিনা দেশের বাইরে এসে জেনারেল মঈনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীদের ভুমিকা রাখা এবং দেশে-বিদেশে আমার বক্তব্য, জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথ কর্মকর্তাদের সাথে আমার বৈঠক এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সচেতন জনগনের অবদান পরবর্তীতে জেনারেল মইকে সাংবিধানিক কমিশন করে কিংবা নির্বাহী আদেশ দিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেয়।

আমি যখন জেনারেল মঈ এর রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টি অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বুঝাতে পারিনি তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পেট্রিসিয়া বিউটিনেস, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচার ও আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল নিকোলাস বার্নস হ সংশিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জেনারেল মঈনের রাষ্ট্রপতি হবার খায়েশ বিনষ্ট করে দিয়েছিলাম।  

আমি বঙ্গভবনে থাকা কালিন জেনারেল মঈন রাষ্ট্রপতিকে কন্ট্রোল করতে সমস্যা হতো বলে তারা আমাকে সরিয়ে দেয় এবং পরে আমার বিরুদ্ধে নানা তদন্ত করে কোন কিছু না পেয়ে ২৬ শে ফেব্রুয়ারী ২০০৭ এবং একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আমাকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। এমনকি লন্ডনেও ব্রিগেডিয়ার আমিন আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। 

জেনারেল মঈন এর অপরাধের যে সব তথ্য আপনি জাতিকে দিলেন এ ব্যাপারে আইনী লড়াইয়ে যাবেন কিনা প্রবাসীবার্তার পক্ষ থেকে জানতে চাইলে জনাব চৌধুরী বলেন, আপনারা জানেন ইতিমধ্যে বিএনপির সালাহউদ্দিন কাদের চেধুরী, ইকবাল মাহমুদ টুকু, আওয়ামীলীগের মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ সেলিমসহ অনেকেই জেনারেল মঈন এর বিচার দাবী করেছেন এবং কেউ কেউ আইনী লড়াই করছেন। আমি জাতির কাছে দায়বদ্ধতা থেকে মিডিয়ায় আমার বক্তব্য দিয়ে যাব।

সর্বশেষ, ২৮ অক্টোবর, ১/১১ পিলখানা ও তার পরবর্তী সকল প্রকার সহিংসতার সাথে জেনারেল মঈন জড়িত ছিলন বলে জনাব চৌধুরী দাবি করেন।


উল্লেখ্যঃ যূক্তরাষ্ট্র সফর কালে মোখলেস চৌধুরী কংগ্রেস ম্যান জোসেফ ক্রাউলির সাথে সাক্ষাত করে ও অনেক তথ্য জানিয়ে ছিলেন। জেনারেল মঈনের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি জাতির কাছে ১/১১ সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরার সকল প্রায়াস চালাবেন বলে ঘোষনা করেন। 


Date:2009-10-20

=================================================================


রাষ্ট্রপতি হতে চাইলে আমাকে কেউ থামাতে পারতো না: নিউইয়র্কের ঠিকানাকে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন

এনা, নিউইয়র্ক থেকে: ১/১১ পরবর্তি ঘটনাবলী থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদকে ঘিরে নানা কথা উঠেছে। পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিতে সাবেক একজন মন্ত্রী কর্তৃক দেওয়ানি মামলাও হয়েছে।

একতরফা এসব প্রচারণা সম্পর্কে জেনারেল মইন কী ভাবছেন, কবে ফিরছেন বাংলাদেশে, তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের ব্যাপারে তার ভাবনা, বিডিআর নৃশংসতা, ডিজিএফআইয়ের কর্মকৌশল, রাজনীতিতে যোগদান করবেন কিনা ইত্যাদি নিয়ে দীর্ঘ এক সাক্ষাতকার দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ উত্তর আমেরিকা থেকে বাংলা ভাষায় সর্বাধিক প্রচারিত ঠিকানা পত্রিকাকে। ৭ অক্টোবর বুধবার ঠিকানায়  রাষ্ট্রপতি হতে চাইলে আমাকে কেউ থামাতে পারতো না� শিরোনামে শীর্ষ সংবাদ হিসেবে ব্যানার হেডিংয়ে প্রকাশিত এ সাক্ষাতকার নিয়েছেন ঠিকানার নির্বাহী সম্পাদক লাবলু আনসার । উল্লেখ্য যে, ১/১১ এর আগে সেনাপ্রধান হওয়ার পর সর্বপ্রথম তিনি সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন ঠিকানাকে। ১/১১ পরবর্তিতে জরুরী আইন চলাকালে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতকার দেন ঠিকানাকে। ১/১১ পরবর্তি পরিস্খিতিতে তার ভূমিকার আলোকে এবারের সাক্ষাতকারটি নেয়া হয় ক্যানসাসে ইউএস আর্মি হোটেলে গত ১ অক্টোবর। সেখানে তিনি এসেছিলেন ইউএস কমান্ড এন্ড জেনারেল স্টাফ কলেজ প্রদত্ত ইন্টারন্যাশনাল হল অব ফেম হিসেবে অভিষিক্ত হতে। সাক্ষাতকারটি এখানে প্রশ্নোত্তর আকারে হুবহু উপস্খাপন করা হলো।

প্রশ্ন : ডিজিএফআইয়ের নির্যাতনের কারণে মতিভ্রম ঘটেছে এবং সে জন্যেই কখন কী বলেন বুঝতে পারেন না এবং তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হন বলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এমপি মিডিয়াকে জানিয়েছেন। এর ৩ দিন আগে তিনি বলেছিলেন যে ১/১১ এর সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

উত্তর : গত ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপি অথবা অনিয়ম হয়েছে বলে দেশ-বিদেশের কেউই এখন পর্য�ত বলেননি। সকলেই বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটি ছিল সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন যেখানে ভোটারেরা নির্ভয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। ঐ নির্বাচনের উপর আ�তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ টিমের তীক্ষ� দৃষ্টি ছিল। পর্যবেক্ষণকারী অসংখ্য সংস্খার একটিও বলেনি যে নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপি হয়েছে। একটি সাধারণ উদাহরণ দিলেই বিষয়টি আরো পরিস্কার হবে বলে আমি মনে করছি। আমার ছোটভাই মিনহাজ আহমেদ জাবেদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আমার জামাইয়ের বড়ভাই ব্যবসায়ী আবুল হাশেমও প্রার্থী ছিলেন। তারা উভয়েই পরাজিত হয়েছেন। এ থেকে কী প্রতিয়মান হয় না যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোনই ভূমিকা ছিল না নির্বাচনে হারজিত নির্ধারণে। আইডি কার্ড এবং ভোটার তালিকা তৈরী ব্যতিত সেনাবাহিনীর কোনই ভূমিকা ছিল না ঐ নির্বাচনে। তাহলে আমরা কীভাবে চিটিং করেছি?

প্র্রশ্ন : চিটিংয়ের প্রশ্ন নয়, এটি হচ্ছে কারচুপির অভিযোগ, সমঝোতার প্রসঙ্গ।

উত্তর : কীসের সমঝোতা, কার সাথে সমঝোতা? কীভাবে সম্ভব সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করা? আমরা কী কাউকে ভোট চুরি করতে দিয়েছি বা বাক্সে ব্যালট ভরে দিয়েছি? এটা কেমন কথা হলো বলেন? তার (আব্দুল জলিল) মত দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি সারাটি জীবন মানুষের জন্যে রাজনীতি করছেন, তিনি যদি এমন কথা বলেন, তাহলে তা খুবই দু:খজনক ব্যাপার। সমঝোতা হলে বা কারচুপি করা হলে সারাদেশে কী সম্ভব? আমি আন্তরিক অর্থেই বলছি যে সে ধরনের কিছুই ঘটেনি ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে।

প্রশ্ন : তবুও কেন অভিযোগ উঠছে?

উত্তর : তা আমি জানি না। অভিযোগ উঠতেই পারে যে কারো বিরুদ্ধে। তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, আমি অথবা আমরা ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখিনি। সে ধরনের কোন অভিলাস আমার ছিল না। সেই প্রথম দিন থেকেই আমি এবং আমরা চেয়েছি ফিন্স, ফেয়ার নির্বাচন। ১/১১ পরবর্তি দু�বছরে কখনো কোথায়ও কি আমাদের মুখে শুনেছেন যে এর বাইরে কিছু বলেছি? মানুষ তো প্রথম থেকেই ভেবেছেন যে আমি প্রেসিডেন্ট হবো, হয়ে যাচ্ছি। এটা মিডিয়া ঘাঁটলেই সকলে নিশ্চিত হবেন যে প্রথমেই আমি বলেছি, ক্ষমতায় যাবার কোন আগ্রহ আমাদের নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করেছি যে, আমাদের দেশ এবং নিকট প্রতিবেশী পাকি�তান, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার প্রভৃতি দেশে লোকজন (সেনাবাহিনী) ক্ষমতায় এসে প্রথমেই বলেন যে, তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবেন, কিন্তু শেষ পর্য�ত তা ঘটে না। আমি তেমন মিথ্যাবাদী হতে চাইনি। একইভাবে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম, আমি যে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছি তারা মিথ্যাবাদী যেন না হয়। আজ আমি খুবই আনন্দিত যে সে ওয়াদা থেকে বিন্দুমাত্র সরে দাঁড়াইনি। সারাবিশ্ব এ সত্য অবলোকন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ তার সাক্ষী।

প্রশ্ন : ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিদেশী কোন বিশেষজ্ঞের সাথে এ ব্যাপারে কোন কথা হয়েছে কি অথবা তারা কোন ম�তব্য করেছেন কি?

উত্তর : নির্বাচনের পরই বস্টনের বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একজন অধ্যাপক আমাকে বলেছেন, আমরা কয়েকজন শিক্ষক মিলে বিশ্বের ৭০টি সামরিক সরকারের গতিবিধি/কার্যক্রম মনিটরিং করেছি, বিশ্লেষণ করেছি, এরপর তা লিপিবদ্ধ করেছি খন্ড খন্ড করে। প্রায় প্রতিটি সামরিক সরকারের শুরুটা একই রকমের ছিল এবং বলতে দ্বিধা নেই যে যবনিকাও ঘটেছে একইভাবে। শুরুতে তারা ভাল কাজ করার চেষ্টা করেছেন, সবগুলো সেক্টরে একসাথে কাজ করতে চান এবং এক পর্যায়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। সর্বশেষে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন অথবা করুণভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। বিদায়টা সকলের জন্যেই ছিল বেদনাদায়ক। ঐ শিক্ষক আমাকে আরো জানিয়েছেন, ১/১১ পরবর্তি দু�বছরে বাংলাদেশে বেসামরিক প্রশাসনকে সেনাবাহিনী যেভাবে সহায়তা করেছে তা গণতান্ত্রিক বিশ্বে উদাহরণ হয়ে থাকবে। সেটি হচ্ছে ব্যতিক্রম। জনাব জলিল কী বল্লেন, আর সারা পৃথিবী কী দেখলো-সেটি কি বিবেচনায় রাখতে হবে না? জনাব জলিল কী কথা বলেছেন এবং কেনই বা বলেছেন, তা উনিই ভালো জানেন।

প্রশ্ন : ডিজিএফআই�র নির্যাতনের কথা মনে হলেই ভীত সন্ত্র�ত হয়ে পড়েন এবং সে কারণে কখন কী বলেন বুঝতে পারেন না বলে দাবি করেছেন আব্দুল জলিল।

উত্তর : দেখুন ডিজিএফআইতে তেমন কোন নির্দেশ ছিল না যে কাউকে নির্যাতন করতে হবে। মানুষকে টর্চার করে কথা বের করার কোন নির্দেশ কখনোই ডিজিএফআইকে দেয়া হয়নি। এমনকি আমার অফিস থেকে কিংবা আমার পক্ষ থেকেও তেমন নির্দেশ ছিল না। ডিজিএফআইয়ের ডিজিতো এখনও চাকরিতে রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই তো এ সত্যের প্রমাণ মিলবে যে কেউ তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন কিনা?

প্রশ্ন : তারা (ডিজিএফআই) নিজেদের উদ্যোগেই নির্যাতনের জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকেন?

উত্তর : না, তাও সত্য নয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে যাদেরকে আনা হয়, তাদের কাউকে ইন্টারভিউ করা হয়, আবার কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইন্টারভিউ এবং ইন্টারোগেশনের মধ্যে পার্থক্যটা সকলকে বুঝতে হবে। এ মুহূর্তে আমি আপনাকে (এ সংবাদদাতাকে) ইন্টারভিউ দিচ্ছি। কিন্তু সে স্খলে আাপনি যদি কাউকে বলেন যে, জেনারেল মইন আমাকে ইন্টারোগেশন করেছেন-সেখানে আমার কিছু কী বলার থাকবে? কারো কাছে কিছু জানতে চাইলেই যদি তাকে টর্চার করা বুঝানো হয়, তাহলে কিছুই করার থাকবে না। আমি সব সময় চেয়েছি দেশে সত্যিকারের একটি নির্বাচন হউক এবং জনগণের প্রতিনিধিরা গণতান্ত্রিক পথে দেশটাকে পরিচালনা করুক।

প্র্রশ্ন : ডিজিএফআইয়ের সাবেক একজন কর্মকর্তা আপনার সংশ্লিষ্টতার কথা মিডিয়াকে বলেছেন। নির্যাতন-গ্রেফতারের সকল বিষয় আপনি মনিটরিং করেছেন বলেও তারা দাবি করছেন। আপনি এখন আর্মিতে নেই বলেই কী সব দোষ আপনার উপর চাপিয়ে তারা বাঁচতে চাইছেন?

উত্তর : দেখুন আমি কী বলবো? আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না, কেন তারা এসব বলছেন? সেনাপ্রধান ডিজিএফআইয়ের ডাইরেক্টরদের সরাসরি নির্দেশ দেন না। তবুও কেন এমনভাবে বলা হচ্ছে তার জবাব তারাই ভাল দিতে পারবেন। সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে, অন্যের উপর দোষ চাপানোর মতবাদে আমি বিশ্বাসী নই। কাউকে কোন কাজে বেস্নম দিতে চাই না। বেস্নম গেমে আমি বিশ্বাসী নই। এটা তো সকলেই দেখেছেন এবং শুনেছেন, প্রথম থেকে আমি কি বলেছি, সবকিছু রেকর্ডে রয়েছে।

প্রশ্ন : ঐ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী একজন সেনা অফিসারকে উদ্ধৃত করে মিডিয়ায় আরো এসেছে যে আপনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্যে ৩ বার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

উত্তর : এটাও ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। আমি যদি প্রেসিডেন্ট হতেই চাইতাম তাহলে তো হয়েই যেতাম। কেউ আমাকে স্টপ করতে পারতো না। আমি যা বলেছি তা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে এবং সকলে তা শুনেছেন ও দেখেছেন। সময়ের ব্যবধানে আমার বক্তব্যের প্রমাণও পেয়েছে সমগ্র জাতি, সমগ্র বিশ্ব। সত্য একদিন উদভাসিত হবেই, জণগণ সত্যকেই সবসময় মেনে নিয়েছেন।

প্র্রশ্ন : বিডিআর নৃশংসতার সাথেও আপনাকে জড়ানোর একটি গুঞ্জন বিভিন্ন মহলে রয়েছে। সেনাপ্রধান হিসেবে আপনার ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে। এমন একটি হত্যাযজ্ঞ ঘটলো, অথচ আর্মি চীফ কিছুই জানলেন না?

উত্তর : আর্মি চীফ কীভাবে জানবেন? বিডিআর আর্মির কোন পার্ট নয়। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবকিছু করে। বিডিআরের কোন কিছুর সাথেই আর্মি জড়িত থাকে না। আমাদের অফিসারের সেখানে যান ডেপুটেশনে। সেখানে যাবার পরই তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ও নির্দেশে সবকিছু করেন। মোট কথা হচ্ছে, বিডিআরের সাথে সেনাবাহিনীর কোন বিজনেস নেই। দ্বিতীয়ত: দেশে সে সময় নির্বাচিত সরকার ছিল। এনএসআই এবং ডিজিএফআই তাদের সকল রিপোর্ট সরাসরি সরকারের কাছে পেশ করে। আর্মি চীফের কাছে রিপোর্ট প্রদানের কোন নিয়ম নেই। এটা আর্মির চেইন অব কমান্ডে কখনোই ছিল না, এখনও নেই। ডিজিএফআই পৃথক কমান্ডে পরিচালিত হয় এবং তাদেরকে রিপোর্ট করতে হয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। ডিজিডিএফআই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করে থাকে।

প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া রিপোর্টের কোন কপি আপনার কাছে দেয় না?

উত্তর : নো, নেভার। এমন কোন বিধানও নেই। তাদের বস হলেন প্রধানমন্ত্রী-এটাই চেইন অব কমান্ড। যখন ঐ ঘটনা ঘটেছে, সে সময় দেশে নির্বাচিত সরকার ছিলেন। তবুও যদি আমার ব্যর্থতাকে কেউ বিবেচনা করেন, তাহলে তারা তা ভাবতে পারেন। এটাতো ব্যর্থতাই ছিল। সেটি অবশ্যই গোয়েন্দা ব্যর্থতার এক বড় উদাহরণ। বিডিআরের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্খা রয়েছে, ডিজিএফআই রয়েছে, এনএসআই রয়েছে, আরো কয়েকটি সংস্খা রয়েছে, কারো নজরে তা আসা উচিত ছিল। এ ঘটনাতো হঠাৎ করে ঘটেনি। এজন্যে সময় লেগেছে, প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কেউ কী তা বুঝতে পারেনি? সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ঐ ঘটনার দুদিন আগে সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন। এ উপলক্ষেও তো সেখানে অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সে সময় তা ধরা পড়া উচিত ছিল।

ঈপ্রশ্ন : মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে যে ঐ ঘটনার ৩ দিন আগেই পিলখানায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। আপনি জানতেন না?

উত্তর : হ্যাঁ, আমরা সেটি পরবর্তিতে জেনেছি। ঐ লিফলেটের হুমকি ও দাবি-দাওয়া সম্পর্কে বিডিআর প্রধান জানতেন। বিডিআরের গোয়েন্দারাও বিষয়টি অবহিত ছিল।

প্রশ্ন : তারা কি বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নেননি?

উত্তর : আমার মনে হচ্ছে, যে সময় এ লিফলেট বিতরণ করা হয়, তারপরই ছিল বিরাট একটি অনুষ্ঠান। বিডিআরের ডিজি হয়তো ভেবেছিলেন যে. এখন ঐ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হলো অনুষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। আমি মনে করছি, বিডিআরের ডিজি চেয়েছিলেন প্রোগ্রাম হওয়ার পরে ঐ সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু বিডিআরের জওয়ানেরা আগে থেকেই এমনভাবে সংগঠিত হয়েছিল যা বিডিআরের ডিজি বুঝতে পারেননি। বিডিআরের ডিজি ভেবেছেন, বেনামী চিঠিতো আসেই। এটা সেনাবাহিনীতেও মাঝেমধ্যে আসে। অন্য সেক্টরেও আসে। এমন নৃশংসতা ঘটবে তা হয়তো কেউ ঘুনাক্ষরেও আঁচ করতে পারেনি।

প্রশ্ন : বিডিআর নৃশংসতার নেপথ্যে কি রাজনৈতিক কোন মদদ রয়েছে? ঐ নৃশংসতার পরই বিভিন্নজনে বিএনপির সা. কা. চৌধুরী এবং পিন্টুর সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন।

উত্তর : আমি এ ব্যাপারে কোন কমেন্ট করতে চাই না। কেননা বিডিআর হত্যাকান্ডের উপর সরকারের পক্ষ থেকে তদ�ত হয়েছে। আর্মির উদ্যোগেও পৃথক তদ�ত হয়েছে। আর্মির এতগুলো চৌকষ অফিসার মারা গেছেন, তার কারণ উদঘাটন করার জন্যেই আলাদা তদ�ত হয়েছে। সেখানে নিশ্চয়ই বি�তারিত সন্নিবেশিত থাকবে।

প্রশ্ন : ১/১১ এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কোন এ্যাকশনে যাবেন না বলার পরই বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ পুনরায় হুমকি দিয়েছেন যে আপনি এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন। আপনার ম�তব্য কী?

উত্তর : কী পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এমন কথা বলেছেন তা আমি জানি না। তবে আমি মনে করছি যে এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণের মত পরিস্খিতির উদ্ভব হচ্ছে।

প্রশ্ন : এর কারণ কি? একক ব্যক্তি হিসেবে তো আপনি ১/১১ পরবর্তি প্রশাসনের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি?

উত্তর : বাংলাদেশের জনগণ, মিডিয়া-তারা কি বলছেন? তারা সকলেই তো বলছেন যে ফিন্স, ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে। তারপরেও কীভাবে তারা বলেন যে নির্বাচনে সমঝোতা হয়েছে, ষড়যন্ত্র হয়েছে? আমি অত্য�ত আস্খার সাথে জানাতে চাই যে, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে আমরা সরে যাবার সংকল্প গ্রহণ করেছিলাম প্রথম থেকেই এবং তা করেছি। এ সত্যের স্বীকৃতি ইতিহাস একদিন দেবেই।

প্রশ্ন : দুর্নীতি দমন, সন্ত্রাস নির্মূল, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের মুলোৎপাটন থেকে আপনারা সরে এলেন কেন?

উত্তর : বাংলাদেশে রাজনৈতিক হাঙ্গামা এমন অবস্খায় পৌঁছেছিল যে, সারাদশের মানুষ ভীত-সন্ত্র�ত হয়ে পড়েছিলেন। আমরা কি কেউ চেয়েছি যে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাক, আমাদের জনগণের কোন ক্ষতি হোক, অর্থনীতি ক্ষতিগ্র�ত হোক। দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা কেউই চাইনি ঐ অবস্খা অব্যাহত থাকুক। সকলেরই কাম্য ছিল দেশে শা�িত প্রতিষ্ঠা হউক, গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি চালু হউক। আমরা সে কাজটি করে দিয়েছি।

প্রশ্ন : রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে আপনিসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেকেই বহুবার বলেছেন। সে সব অর্থের তথ্য জনগণ এখন পর্য�ত সবি�তারে জানতে পারেনি।

উত্তর : কেন, প্রায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে।

প্রশ্ন : তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে কেয়ারটেকার প্রশাসনের সময় অভিযোগ উঠেছিল। সে অর্থের কোন হদিস পেয়েছেন কি?

উত্তর : গোপন টাকা কিংবা পাচারকৃত টাকা উদ্ধার করতে অনেক চেষ্টা করা হয় জরুরী আইনের আওতায়। এজন্যে কয়েকটি সংস্খার সাথে কাজ করা হয়। চুক্তিবদ্ধ হতে পারলে কেউই লুন্ঠিত অর্থ লুকিয়ে রাখতে পারবেন না। সেগুলো উদ্ধার হবেই। ইতিমধ্যেই বিরাট অংকের একটি অর্থ উদঘাটিত হয়েছে। এজন্যে বছরাধিককাল অপেক্ষা করতে হয়েছে। একইভাবে অন্য ব্যাপারেও সময় দিতে হবে। এগুলোর সাথে শুধু বাংলাদেশ জড়িত নয় বিধায় তদ�েতর আগে নানা প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে সময় লাগে।

প্রশ্ন : তারেক রহমান পুনরায় বাংলাদেশে ফিরছেন বলে কি আপনার মনে হয়?

উত্তর : এটা সম্পূর্ণভাবেই তার ব্যাপার। তিনি যেতে চাইলে যাবেন, না চাইলে যাবেন না। এসব ব্যাপারে আমার কোন ধারণা নেই, আমি কিছু বলতেও চাই না।

প্রশ্ন : শোনা যাচ্ছে যে আপনি আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ফ্লোরিডায় একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছিলেন বলে খবরও রটেছিল। এখন আপনার সিদ্ধা�ত কী?

উত্তর : কতকিছুই তো লেখা হচ্ছে, বলা হচ্ছে। কিন্তু তা কি সত্যি বলে আপনারা দেখেছেন? কেউ আপনাকে কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতেই পারে, সেখানে যাওয়া, না যাওয়ার ব্যাপারটি নিতা�তই আপনার।

প্রশ্ন : মহাজোট সরকারের ৯ মাসের কোন অবজার্ভেশন রয়েছে কি?

উত্তর : তারা এসেছেন কয়েক মাস হলো। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। নিশ্চয়ই সেগুলো বা�তবায়নে তারা আ�তরিক অর্থেই সোচ্চার রয়েছেন। আমি তাদের ব্যাপারে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছি। জনগণ দেশের মঙ্গল চান এবং তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সেটাই করে যাবেন-এ প্রত্যাশা আমারও।

প্রশ্ন : বাংলাদেশকে রাইট ট্র্যাকে আনার যে সংকল্প নিয়ে আপনারা দু�বছর কাজ করেছেন, তা কি নতুন সরকারের প্রশাসনের অব্যাহত রয়েছে?

উত্তর : এ ব্যাপারে জনগণই ভাল বলতে পারবেন।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে বদ্ধ পরিকর। অপরদিকে অনেকে অভিযোগ করছেন যে দেশে পুনরায় রাজনৈতিক দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সামাজিক সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। আপনার অভিমত কী?

উত্তর : দেখুন, আমরা দেশবাসীকে দেখাতে চেয়েছি, একটি মেসেজ দিতে চেয়েছি যে, আ�তরিক ইচ্ছা থাকলে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। তবে একেবারে তো বন্ধ করা যাবে না, ক্রমান্বয়ে কমানো যাবে। তাই, আমি নিশ্চিত যে, বর্তমান সরকার তা বিবেচনায় রেখেই অগ্রসর হবেন। আপনারা ইতিমধ্যেই জেনেছেন যে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংকল্পবদ্ধ দুর্নীতি হন্সাসের ব্যাপারে। উনারা আসছেন ৫ বছরের জন্য। এখনও সোয়া ৪ বছর হাতে রয়েছে। নিশ্চয়ই তারা তাদের পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদেরকে সময় দিতে হবে সে পরিকল্পনা বা�তবায়িত করতে। রাতারাতি কিছুই সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, প্রত্যেক বিষয়েই জনগণ সঠিক মূল্যায়ন করেন।

প্রশ্ন : দুর্নীতি বিরোধী অভিযান থেকে হঠাৎ করে পিছু টান দিলেন কেন?

উত্তর : এটা আদৌ সত্য নয়। আমরা পিছুটান দেইনি। আমরা সবসময় সংকল্পবদ্ধ ছিলাম, সুন্দর একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরীর জন্য। সেটি করেছি। দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে নিশ্চয়ই।

প্রশ্ন : জরুরী অবস্খা চলাকালে কিংস পার্টি গঠনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা ব্যর্থ হলো কেন?

উত্তর : সে উদ্যোগের ব্যাপারে জানতাম না এবং কোনভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম না। দল করবো কেন?

প্রশ্ন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জেনারেল মতিনকে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ব্যাপারে আপনার কোন ধারণা রয়েছে কি? সংসদীয় কমিটি তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উথাপন করেছে সে ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?।

উত্তর : একটি ব্যাপার সকলের জানা উচিত যে, ১/১১ পরবর্তি দু�বছরে সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সরকারের কোন কাজে কখনোই হ�তক্ষেপ করেনি। আমরা কোন সময় জিজ্ঞাসাও করিনি কোথায় কী হচ্ছে। কারণ, ঐসবের জন্যে তারাই দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং জবাবদিহি তাদেরকেই করতে হবে। তবে তারা অনেক ভাল কাজ করেছেন। এতদসত্বেও যদি কারো কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান সরকার তা খুঁজে বের করবেন। কারো বিরুদ্ধে একতরফা কিছু বলার সুযোগ থাকা উচিত নয়। সকলকেই আতপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই বিচার করা উচিত।

প্রশ্ন : ১/১১ পরবর্তি সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক সেনা অফিসার দুর্নীতি করেছেন বলে এখন যে অভিযোগ উঠছে তা নিয়ে কিছু বলবেন কী?

উত্তর : সে ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।

প্রশ্ন : ক্যানসাসের স্টাফ কলেজ প্রদত্ত নৈশভোজ উত্তর অনুষ্ঠানে আপনি তাদেরকে ঘোড়া উপহার দিয়েছেন। এর আগে ভারত সফরকালে তারা আপনাকে ঘোড়া দিয়েছে। এর কারণ কি?

উত্তর : ঘোড়া হচ্ছে মিলিটারীর প্রতিক। সেজন্যে সেনাপ্রধান হিসেবে আমি যখনই যেখানে গেছি তখনই ঘোড়া প্রতিক উপহার দিয়েছি। ভারত থেকে আমরা সেনাবাহিনীর জন্যে ঘোড়া ক্রয় করতে চেয়েছিলাম। সে স্খলে তারা আমাদেরকে ঘোড়া উপহার দিয়েছেন-এজন্যে আমি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।

প্রশ্ন : বর্তমান সেনা প্রধান সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

উত্তর : পেশার প্রতি অত্য�ত নিষ্ঠাবান একজন সৈনিক তিনি। নিশ্চয়ই তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যথাযথ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর ইমেজ আরো গৌরবান্বিত করতে তিনি নির�তর প্রয়াস চালাবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন : এর আগের সাক্ষাতকারে আপনি ঠিকানাকে বলেছিলেন যে অবসরে গিয়ে অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেবেন। সে ব্যাপারে কিছু বলবেন কী?

উত্তর : ইতিমধ্যেই আমি সে কাজ শুরু করেছি। বাংলাদেশের এতিম ছেলে-মেয়েরা এতিমখানায় তেমনভাবে লেখাপড়া করার সুযোগ পায় না। আমি চাচ্ছি, এতিম ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যারা মেধাবী-তাদেরকে একত্রিত করবো। দেশের বিভিন্ন এতিমখানা যাবো এবং তাদের বাছাই করবো। নিয়ে আসবো আমার প্রকল্পে। তাদের মেধাকে বিকশিত হতে যথাযথ উদ্যোগ নেব। অর্থকড়ি নিয়ে তাদের কিছুই ভাবতে হবে না। তারা নিজ নিজ বিষয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে। ক্যাডেট কলেজের মডেলে শিক্ষা দেয়া হবে। যারা ডাক্তার হতে চায় তারা মেডিকেল কলেজে যাবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে বুয়েট অথবা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করবো। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়েরা গ্রীষ্মের ছুটিতে ভলান্টারী জব করেন। তাদেরকে নিয়ে যাবো আমার সে প্রতিষ্ঠানে। শুধুমাত্র থাকা-খাওয়ার ব্যবস্খা করতে হবে। তার বিনিময়ে আমার প্রতিষ্ঠানের এতিম ছেলে-মেয়েরা পাশ্চাত্যের শিক্ষার সাথে পরিচিত হতে পারবে। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর তাদেরকে দেশের উন্নয়নে নিয়োগ করা হবে।

প্রশ্ন : এ প্রতিষ্ঠান কোথায় গড়ছেন?

উত্তর : ঢাকার কাছে কোথায়ও। অনেক টাকা লাগবে। ইতিমধ্যেই মানবহিতৈষী অনেকে এগিয়ে এসেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়া চলবে ইংরেজী মিডিয়ামে। পাশাপাশি ধর্ম-কর্ম শিক্ষাও দেয়া হবে। সেখানে থাকবে খেলার মাঠ, গবেষণাগার, পাঠাগার ইত্যাদি। এ প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক করেছি এবং তা হচ্ছে �ব্রাইট স্টার।�

প্রশ্ন : প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে আপনার কোন মেসেজ রয়েছে কি?

উত্তর : ঠিকানার মাধ্যমে আমি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি দেশের প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালবাসার জন্য। তাদের প্রেরিত অর্থে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্খিতি চাঙ্গা রয়েছে।

প্রশ্ন : ঠিকানার পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

উত্তর : আপনাকে এবং ঠিকানা পরিবারের সকলকে ধন্যবাদ।