Mokhles Chowdhury

News

ঢাকা, ১২ আগষ্ট ২০১০

বাংলাদেশ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে আন্দোলনের বিকল্প নেই
লন্ডনে পাবলিক মিটিংয়ে বক্তারা
মহিউদ্দিন আফজাল লন্ডন: ইউকে কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশের উদ্যোগে লন্ডনে গত ১০ আগস্ট নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্যের স্টেপনি গ্রিন, ওয়াটার লিলি হলে গত ১০ আগস্ট দ্য ইউকে কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশ আয়োজিত এক পাবলিক মিটিংয়ে বক্তারা বাংলাদেশের চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বিরোধী মত ও পথের লোকদের দমনের লক্ষ্যে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সাংবাদিকরা। বক্তারা বলেন, দেশে গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গেছে। শ্রমিক আন্দোলন দমনের নামে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর নৃশংস পুলিশি নির্যাতন বিশ্ববাসীকে হতবাক করেছে। ভারতের সাথে গোপন চুক্তি করা হয়েছে। দেশবাসী জানে না সে চুক্তিতে কী আছে। সরকার সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এই সরকার ব্যর্থ। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সমস্যার সমাধানসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

দ্য ইউকে কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশের কনভেনার, ভয়েস ফর জাস্টিস ওয়ার্ল্ড ফোরামের চেয়ারম্যান ড. হাসনাত এম হোসাইন এমবিই এবং কো-কনভেনার, জমিয়তে ওলামা ইন ইউরোপের চিফ এডভাইজার ও মাল্টিফেইথ ডায়ালগের পেট্রন মুফতি শাহ সদরুদ্দীনের যৌথ সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর নিউক্লিয়ার ডিসআরমামেন্ট, টাওয়ার হেমলেটস চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান, লেন অলডিস, গ্লোবাল সিভিলাইজেশন স্টাডিজ সেন্টার, লন্ডনের চেয়ারম্যান ড. কামাল হেলভাভি, পেট্রিয়টিক বাংলাদেশ ও নিউজ বাংলা ইউকের চেয়ারম্যান শামছুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ সেন্টার ফর সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অব ইউকে ও ইউকে অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মাহিদুর রহমান, ইউকে বিএনপি’র সভাপতি মোঃ কমর উদ্দীন, সাপ্তাহিক ইউরো বাংলার চেয়ারম্যান মিয়া মনিরুল আলম, জাস্টিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, কাউন্সিল অব মস্ক, ইউকের চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা শামসুল হক, মাজহারুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা ইমদাদুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ইউকের সভাপতি ও খতিব, আল হুদা জামে মসজিদ, লন্ডন অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, সেভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট ইউকের সভাপতি ও মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শোয়াইব আহমদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউকের সভাপতি জগলুল হোসাইন, হিউম্যান রাইটস কনসার্ন, ইউকের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, ইউকে টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান, সভাপতি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, ইউকে মাওলানা শাহ আনাস, ইউকে খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মোঃ সদরুজ্জামান, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, লেখক ও সমাজসেবক মোঃ মুনাওয়ার হোসাইন বদরুদ্দোজা, মেজর (অবঃ) আবু বকর সিদ্দিক, ইসলামিক ফোরাম অব ইউরোপের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জিলু, খেলাফত মজলিস, বার্মিংহাম সভাপতি মাওলানা এনামুল হাসান সাবের, সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, আল ইহসান ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি অ্যাডভাইস সার্ভিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাওলানা আব্দুল মোনেম চৌধুরী, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জাস্টিস সোসাইটির সেক্রেটারি মহিউদ্দীন আফজাল, সর্বদলীয় ওলামা সংগঠন বাংলাদেশ মুসলিমস, ইউকের সমন্বয়কারী মাওলানা এ কে এম সিরাজুল ইসলাম, কমিউনিটি লিডার মোঃ নূর বকস, ইব্রাহীম কলেজের শরিয়া কনসালট্যান্ট মুফতি মাওলানা মুন্তাকিম, মুফতি মাওলানা মওসুফ হোসেন, মাওলানা সাইয়েদ নায়িম আহমদ, মোঃ আলিয়ার হোসাইন, লন্ডন মেইলের সম্পাদক ড. এম এ আজিজ, বিএনপি নেতা এম এ মালিক প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার প্রশাসনের সর্বস্তরে চরম দলীয়করণ করেছে। দেশের মানুষ আজ দুঃসময় অতিক্রম করছে। সরকারদলীয় কর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভূমিদখল, লুটতরাজ আজ নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশকে চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দর ব্যবহারএবং ট্রানজিট দেয়ার জন্য সরকার চুক্তি করছে, অথচ এর বদলে দেশ কিছুই পাচ্ছে না।
দেশ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে এখন গণআন্দোলনের বিকল্প নেই। বক্তারা বলেন, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সীমান্ত রক্ষাবাহিনী বিডিআরকে দুর্বল করা হয়েছে। সীমান্তে চলছে অবাধ চোরাচালান। সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে। অথচ এর বিরুদ্ধে সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা আরো বলেন, জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। খুন, রাহাজানির সাথে যোগ হয়েছে গুপ্তহত্যা।
বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সাদা পোশাকে পুলিশ চৌধুরী আলমকে ধরে নিয়ে নিখোঁজ করেছে। তারা চৌধুরী আলমকে খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। বক্তারা বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এমপি, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। সমাবেশে ছয় দফা প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণমিছিল ওয়াটার লিলি থেকে আলতাফ আলী পার্কে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দি ইউকে কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ।

 


ঘরের ঝগড়া পরকে দিয়ে দমন করতে গেলে মালিকদের কখনো গৃহহারা হতে হয়, এটাই ১/১১র শিক্ষা

-মোখলেসুর রহমান চৌধুরী

 

 
ঢাকা, ১১ জানুয়ারি (শীর্ষ নিউজ ডটকম): ওয়ান ইলেভেন  থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এরূপ ঘটনা ভিন্ন চেহারায়ও ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্র্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ-এর উপদেষ্টা এম. মোখলেসুর রহমান চৌধুরী। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ওয়ান-ইলেভেনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত ৮ জানুয়ারি ইস্ট লন্ডনে বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

একে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় টাওয়ার হ্যামলেটের সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলর দরছউল্লাহ বিশেষ অতিথি ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ওয়ালী সিদ্দিকী, ডা. আনিসুল ইসলাম জিপি, মাসুদুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ আহমদ উল্লাহ, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ। 

মোখলেসুর রহমান বলেন, দেশের প্রেসিডেন্ট, সরকার, রাজনীতিবিদ, বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী, সিভিল সোসাইটিসহ সকলকেই ওয়ান-ইলেভেন থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ, যারা দেশের সেবা করেন তাদের ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হয়, অসুর শক্তি দিয়ে নয়। রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থা রাজনীতিবিদদেরই বিষয়। ঘরের ঝগড়া পরকে দিয়ে দমন করতে গেলে কখনও কখনও মালিকদের গৃহহারা হতে হয়-এটাই সকল রাজনৈতিক পক্ষের জন্য ওয়ান-ইলেভেনের শিক্ষা।

সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ১১ জানুয়ারি ২০০৭ আমাদের জাতীয় জীবনের এক কলঙ্কময় দিন। এ ঘটনা জাতিকে অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এদিন রাজনীতিবিদদের অনৈক্য ও দুর্বলতার অজুহাতে সুযোগসন্ধানী জেনারেল মইন ও কতিপয় সহযোগী দেশের সংবিধান ও আইন-কানুন অমান্য করে রাষ্ট্রপতির ওপর চড়াও হয় পেশীশক্তির বলে। ক্ষমতালোভী জেনারেল মইন দেশের রাষ্ট্রপতিকে জিম্মি করে কতিপয় বিদেশি নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি পুতুল সরকার বসায়। যারা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করতেও দ্বিধা করেননি। এ গোষ্ঠীটি একে একে দেশের সংবিধান, সরকার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, বিচার ব্যবস্থা ও সরকারি আইন-কানুন ধ্বংস করে ফেলে। দুর্নীতি দমনের শ্লোগান দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে। যা আইনের স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করে। পেশীশক্তির বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচার করে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

 মোখলেসুর রহমান বলেন, শর্টকাট পন্থায় ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে জেনারেল মইন একশ্রেণীর রাজনীতিকদের নানাভাবে ব্যবহার করেন, যা রাজনীতিবিদদের ঐতিহ্যগত বিশ্বাস ও সম্মানে আঘাত করে। রাজনীতিবিদদের হাতেই এদেশে অনেক বড় বড় সংকট সমাধান হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মহান স্বাধীনতার  জন্য যুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পরে সংকট নিরসন, নির্বাচন ও সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তনের বিষয় উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাবাহিনী কর্তৃক রাজনীতির অনধিকার চর্চা, গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক চাইনিজ হোটেলের বিল দেয়াসহ বেআইনি কর্মকাণ্ড নিয়ে শেখ হাসিনার তৎকালীন মন্তব্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারের সময় অভব্য আচরণের জন্য বর্তমান বিরোধী দলীয়নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিবাদ, মাইনাস টুর প্রেক্ষিতে দুনেত্রীর পারস্পরিক সহমর্মিতা-ঔদার্য জাতিকে আশ্বস্ত করেছিল। কিছু বিষয়ে ওই রকম ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। তা না হলে নিজেদের সমস্যায় বরকন্দাজরা এগিয়ে এলে কি চরম মূল্য দিতে হয় তা সকলেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। কাজেই ভবিষ্যতে ওয়ান-ইলেভেনের মত দুর্যোগ ঠেকাতে দলাদলি-বিভেদ ভুলে গিয়ে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে রাজনীতিবিদদেরই।

সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, ওয়ান-ইলেভেন ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর পেশাগত ও নৈতিক ক্ষতি হয় ব্যাপক। সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্রবাহিনীর শৃংখলা, ট্রেনিং ও শপথ লংঘন করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, যা অনেককে বেআইনি কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এর পথ ধরেই পরবর্তীতে ঘটে পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা। ১১ জানুয়ারি ২০০৭ শৃঙ্খলাভঙ্গকারি জেনারেল মইনসহ রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের জাতির স্বার্থে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি। এদের প্রতি কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, জেনারেল মইন ২৮ অক্টোবর থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনবার জরুরি আইন জারি করতে চাইলে সে চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনীর বিবদমান বিভিন্ন গ্রুপকে দুটি রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে রাজনীতিবিদদের পরিবর্তে সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়। জাতিসংঘের মহাসচিবের বক্তব্যকে ব্লাকমেইলিং করে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, জেনারেল মইনের সর্বশেষ পরিকল্পনা ছিলো ১২ জানুয়ারির মধ্যে মার্শাল ল জারি করা। কিন্তু মার্কিন রাষ্টদূতের সহযোগিতা নিয়ে সে প্ল্যান ঠেকিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। সংবিধানে জরুরি আইনের বিধান আছে এ সুযোগ ব্যবহার করে মইন রাষ্ট্রপতিকে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সই করতে বাধ্য করেন। রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক আমাকে বঙ্গভবন থেকে সরিয়ে দেন জেনারেল মইন। ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দফায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়। এমনকি ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর  লন্ডনে ব্রিগেডিয়ার আমিনকে দিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আমাকে আরো কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়।

বক্তারা মইনের লেখা রাষ্ট্রপতির ভাষণ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী অংশগুলো সাহসিকতার সাথে বাদ দেয়ার জন্য মোখলেস চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তারা ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তথাকথিত সুশীলসমাজ, রাজনীতিক, পত্রপত্রিকার দালালির বিষয় উল্লেখ করেন। দুর্নীতি নির্মূলের কথা বলে জেনারেল মইন, তার গড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও তার সহচররা দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে ও আইন ভঙ্গ করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

(শীর্ষ নিউজ ডটকম/এসআর/ জেইউ/এসএম/১০.৩০ঘ.)

 http://www.sheershanews.com/index.php?option=com_content&view=article&id=10160:2010-01-11-05-23-55&catid=34:2009-07-14-11-31-17&Itemid=53





পিবিসি নিউজ: তথাকথিত `ওয়ান ইলেভেন' থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এরূপ ঘটনা ভিন্ন চেহারায়ও ঘটাতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা এম মোখ্লেসুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন দেশের প্রেসিডেন্ট, সরকার, রাজনীতিবিদ, বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী,সিভিল সোসাইটিসহ সকলকেই ১/১১ থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরী। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ, যারা দেশের সেবা করেন তাদের ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। রাজনীতিকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে হয়, অসুর শক্তি দিয়ে নয়। রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থা রাজনীতিবিদদেরই বিষয়। ঘরের ঝগড়া পরকে দিয়ে দমন করতে গেলে কখনও কখনও মালিকদের গৃহহারা হতে হয়- এটাই সকল রাজনৈতিক পক্ষের জন্য ১/১১র শিক্ষা। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত `ওয়ান ইলেভেনের' তৃতীয়বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ৮ জানুয়ারী ইস্ট লন্ডনে বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা এম মোখ্লেসুর রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

১/১১র সময় বঙ্গভবনে দায়িত্বরত সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ১১ জানুয়ারী ২০০৭ আমাদের জাতীয় জীবনের এক কলঙ্কময় দিন। এ ঘটনা জাতিকে অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এদিন রাজনীতিবিদদের অনৈক্য ও দুর্বলতার অযুহাতে সুযোগসন্ধানী জেনারেল মইন ও কতিপয় সহযোগী দেশের সংবিধান ও আইন-কানুন অমান্য করে রাষ্ট্রপতির ওপর চড়াও হয় পেশীশক্তির বলে। ক্ষমতালোভী জেনারেল মইন দেশের রাষ্ট্রপতিকে জিম্মি করে কতিপয় বিদেশী নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি পুতুল সরকার বসায়, যারা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করতেও দ্বিধা করেননি। এ গেষ্ঠিটি একে একে দেশের সংবিধান, সরকার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থা ও সরকারী আইন-কানুন ধ্বংস করে ফেলে। দুর্নীতি দমনের জনপ্রিয় শ্লোগান দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে, যা আইনের স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করে পেশীশক্তির বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচার করে। ফলে ব্যবসা বানিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় এবং জনসাধারনের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

তিনি বলেন, শটকাট পন্থায় ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে জেনারেল মইন একশ্রেণীর রাজনীতিকদের নানাভাবে ব্যবহার  করেন, যা রাজনীতিবিদদের ঐতিহ্যগত বিশ্বাস ও সম্মানের মূলে করে আঘাত। এদেশে অনেক বড় বড় সংকট রাজনীতিবিদদের হাতেই সমাধান হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মহান স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ, '৯০ এর গণআন্দোলনের পরে সংকট নিরসন, নির্বাচন ও সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তনের বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, ১/১১র পরে সেনাপতি কর্তৃক রাজনীতির অনধিকারচর্চা, গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক চাইনিজ হোটেলের বিল দেয়াসহ বেআইনী কর্মকান্ড নিয়ে শেখ হাসিনার তৎকালীন মন্তব্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারের সময় অভব্য আচরনের জন্য বর্তমান বিরোধী দলীয়নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিবাদ, মাইনাস টু'র প্রেক্ষিতে দু’নেত্রীর পারস্পরিক সহমর্মিতা-ঔদার্য জাতিকে আশ্বস্ত করেছিল। কিছু বিষয়ে ওই রকম ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন জনাব মোখলেস। তা না হলে নিজেদের সমস্যায় বরকন্দজরা এগিয়ে এলে কি চরম মূল্য দিতে হয় তা সকলেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। কাজেই ভবিষ্যতের ‘ওয়ান ইলেভেনের’ মত দুর্যোগ ঠেকাতে দলাদলি-বিভেদ ভুলে গিয়ে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে রাজনীতিবিদদেরই।

জনাব মোখলেস বলেন, ১/১১ ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর পেশাগত ও নৈতিক ক্ষতি হয় ব্যাপক। সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্রবাহিনীর শৃংখলা, ট্রেনিং ও শপথ লংঘন করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, যা অনেককে বেআইনী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এর পথ ধরেই পরবর্তীতে ঘটে পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা। ১১ জানুয়ারী ২০০৭ শৃ্খংলা ভঙ্গকারী জেনারেল মইনসহ রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের জাতির স্বার্থে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করেন তিনি। এদের প্রতি কতৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জনাব চৌধুরী বলেন, জেনারেল মইন ২৮ অক্টোবর থেকে ১১ জানুয়ারী পর্যন্ত তিন বার জরুরী আইন জারী করতে চাইলে সে চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনীর বিবদমান বিভিন্ন গ্রুপকে দু’টি রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে রাজনীতিবিদদের পরিবর্তে সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়। জাতিসংঘের মহাসচিবের বক্তব্যকে ব্লাকমেইলিং করে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, জেনারেল মইনের সর্বশেষ পরিকল্পনা ছিলো ১২ জানুয়ারীর মধ্যে মার্শাল ’ল জারী করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূতের সহযোগিতা নিয়ে সে প্লান ঠেকিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। সংবিধানে জরুরী আইনের বিধান আছে এ সুযোগ ব্যবহার করে মইন রাষ্ট্রপতিকে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সই করতে বাধ্য করেন । রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক আমাকে বঙ্গভবন থেকে সরিয়ে দেন জেনারেল মইন। ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল ও ৭ সেপ্টেম্বর দু’দফায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন করা হয়, এমনকি ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে ব্রিগেডিয়ার আমিনকে দিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আমাকে আরো কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়।

একে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় টাওয়ার হ্যামলেটের সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলর দরছউল্লাহ বিশেষ অতিথি ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ব্যারিষ্টার ওমর ফারুক, ওয়ালী সিদ্দিকী, ডা: আনিসুল ইসলাম জিপি, মাসুদুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্জ আহমদ উল্লাহ, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ কামউনিটির নেতা। বক্তারা মইনের লেখা রাষ্ট্রপতির ভাষন থেকে রাষ্ট্রবিরোধী অংশগুলো সাহসিকতার সাথে বাদ দেয়ার জন্য মোখলেস চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তারা ১/১১র ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তথাকথিত সুশীলসমাজ, রাজনীতিক, পত্রপত্রিকার দালালীর বিষয় উল্লেখ করেন। দুর্নীতি নির্মুলের কথা বলে জেনারেল মইন ও তার গড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও তার সহচররা দেশে সবচেয়ে বেশী দুর্নীতি করেছে ও আইন ভঙ্গ করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

http://probashibarta.com/bn/details.php?cat=20&NewsDate=2010-01-24&NewsId=1650 

 
Date:2010-01-10


 

Mukhles Chowdhury is addressing to a gathering in London to protest Tipai Dam.

 

 

 ==========================================================================

bwxtZòmylZwk exkPt dw xbËl Awgwk ËbËm AkwRKZwk oÚxÄ pËZ ewËk

                                                                    - ËiwLËlo ËP#cÖky

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফররত পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আশ্রাফ আলী হাওলাদার  প্রেসিডেন্টের সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরীর সাথে লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলে সাক্ষাৎ করেন। পারস্পারিক কুশল বিনিময় ও দেশবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জনাব চৌধুরী বলেন, দেশের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গনতান্ত্রিক, সহনশীল ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিলে ষড়যন্ত্রকারী ক্ষমতালিপ্সু গুপ্তচরেরা আবার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কথা বলে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করতে পারে। তাই ক্ষমতাসীন দলকে সকল পর্যায়ে বেশী সহনশীল হওয়ার জন্য আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, দেশে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা চালু করতে সরকারকে বেশী ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারী বেসরকারী যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা ভোগ করেন তাদেরকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আইনী কাঠামো প্রতিষ্ঠা  এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরীর সাথে এই সাক্ষাৎকালে অন্যান্যেদের মধ্যে সমাজসেবী শরীফ আল আমিন, মোঃ আনোয়ার হোসেন, ডালিম ও শাহদাত হোসেন আল আমিন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা হাজী আশ্রাফ আলী হাওলাদার দেশে ফিরে যাওয়ার পুর্বে যুক্তরাজ্য বিএনপির আহবায়ক জনাব কমরউদ্দিনের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন এবং এক এগার ষড়যন্ত্রের অন্যতম ভিক্টিম বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও আপামর জন সাধারনের প্রানপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের আশু শারীরিক সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

 

 =================================================================

বার্মিংহামে জাঁকজমকপূর্ণ হবিগঞ্জ মিলন মেলা

ফেরদৌস করিম আখনজী, বার্মিংহাম, ইংল্যান্ড থেকে \ ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হবিগঞ্জ জেলার প্রবাসীদের জাঁকজমকপূর্ণ হবিগঞ্জ মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির। বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের কৃতিসন্তান রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জালাল আহমেদ ও এসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার অব বার্মিংহাম ফয়সল আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এমপি আবু জাহির বলেন, আমি হবিগঞ্জ-লাখাই আসনে এমপি নির্বাচিত হলেও আমি মনে করি পুরো হবিগঞ্জ জেলারই জনপ্রতিনিধি। তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এসএম কিবরিয়া সারা বিশ্বে হবিগঞ্জকে পরিচিতি এনে দিয়েছিলেন। গ্রেনেড হামলায় আমিও তার সাথে আহত হয়েছিলাম। আপনাদের দোয়ায় আমি বেঁচে আছি। আমি আপনাদের নিয়ে শাহ এএমএস কিবরিয়া আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। এমপি জাহির শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করার জন্য ইংল্যান্ডে বসবাসকারী হবিগঞ্জ প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী। অল্পতেই তুষ্ট এবং নিষ্ঠাবান। তারা সৃজনশীলও বটে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী হবিগঞ্জবাসী এ ঐতিহ্য বজায় রেখে বাংলাদেশ ও বৃটেনের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবেন। তিনি বাংলাদেশের ভাল দিকগুলো যুক্তরাজ্যে প্রয়োগ করে দেশের সুনাম বয়ে আনার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান জালাল আহমেদ বলেন, আপনারা প্রবাসীরা যদি হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে স্কুল কলেজ নির্মাণে সহায়তা করেন তাহলে হবিগঞ্জ অনেক এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আমি আশা করি নতুন প্রজন্ম যারা এদেশে বসবাস করেন তাদের দেশের সাথে যোগাযোগ রা করা উচিত। তাহলে তারা জানতে পারবে তাদের পূর্ব পুরুষেরা দেশের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন।
বার্মিংহামের মিরাজ হলে হবিগঞ্জ সোসাইটি মিডল্যান্ড ইউকে আয়োজিত মিলন মেলার আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রানা মিয়া চৌধুরী। বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক, বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৈয়দ ইকবালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাজিদুল হক চৌধুরী, কামাল হোসেন, তোফাজ্জুল হোসেন চৌধুরী, সমশেদ বখত চৌধুরী, এমএ মুনতাকিম। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুপের মাইয়া খ্যাত হবিগঞ্জের মামুন। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। সকাল থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে হবিগঞ্জ প্রবাসীরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন। এ সময় অনেক দিন থেকে না দেখা প্রবাসীরা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। হবিগঞ্জ মিলন মেলা পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে আগত প্রায় ৫ থেকে ৬শ হবিগঞ্জ প্রবাসী সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সকলেই আয়োজকদের এ ধরণের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

 ===================================================================